মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার জেলায় শুরু থেকে বুধবার ১৬ জুন পর্যন্ত গত ১৫ মাসে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ২২৬ জন। একইসময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ১১৮ জন। মৃতদের মধ্যে ১৯ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী (বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক)। অবশিষ্ট ৯৯ জন স্থানীয় নাগরিক। মোট আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ১’০৬%।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন অফিসের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিয়া হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বুধবার ১৬ জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলা ৪ হাজার ৭৬২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। যা জেলার মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রায় ৪৩% ভাগ। ১ হাজার ২৮৫ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী সহ মোট ২ হাজার ৬৮২ জন করোনা রোগী নিয়ে উখিয়া উপজেলা দ্বিতীয় শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। এরমধ্যে, স্থানীয় নাগরিক ১ হাজার ৩৯৭ জন। ২৫০ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী সহ মোট ১ হাজার ৫৩৫ জন করোনা রোগী নিয়ে টেকনাফ উপজেলা তৃতীয় শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে। তারমধ্যে, স্থানীয় নাগরিক ১ হাজার ২৮৫ জন। ৭৯২ জন করোনা রোগী নিয়ে চকরিয়া উপজেলা চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ৬৭১ জন করোনা রোগী নিয়ে রামু উপজেলা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ৬৫৪ জন করোনা রোগী নিয়ে মহেশখালী উপজেলা ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ২৯৯ জন করোনা রোগী নিয়ে পেকুয়া উপজেলা সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। ১১০ জন করোনা রোগী নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা অষ্টম অবস্থানে রয়েছে।

কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, ১৬ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩৫ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। তারমধ্যে, উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ১ হাজার ২৮৫ জন এবং টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ২৫০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী মারা গেছে। তবে গত এক বছরের তুলনায় চলতি বছরের এপ্রিল-মে-জুন মাসে ক্যাম্প গুলোতে রোহিঙ্গা শরনার্থী আক্রান্তের হার অনেক গুন বেড়েছে।

মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিয়া হক এর দেওয়া তথ্য মতে, গত ১৬ জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ১০ হাজার ৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৯০% ভাগ।

ঢাকার মহাখালী আইইডিসিআর এর ল্যাব থেকে করোনার নমুনা টেস্ট করে চকরিয়ার খুটাখালীর মুসলিমা খাতুন নামক একজন বয়স্ক মহিলার শরীরে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ কক্সবাজার জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়।কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা টেস্ট টেস্ট শুরু হয় ২০২০ সালের ২ এপ্রিল হতে। এর আগে ঢাকার মহাখালী আইইডিসিআর এর ল্যাবে কক্সবাজারের নাগরিকদের নমুনা টেস্ট করা হতো। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের কোনার পাড়ার তুমব্রু ‘জিরু পয়েন্ট’ এর আবু সিদ্দিক নামক তাবলীগ ফেরত একজন নাগরিকের নমুনা টেস্ট রিপোর্ট সর্বপ্রথম ‘পজেটিভ’ করা শনাক্ত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •