সিবিএন ডেস্ক:
মিয়ানমারের একটি গ্রামে মঙ্গলবার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় গেরিলাদের সংঘর্ষের পর গ্রামটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বুধবার রাতে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

স্থানীয় বাসিন্দরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিন মা নামের ওই গ্রামটির ২৪০টি ঘরের মধ্যে ২০০টিই পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা জানান, জান্তা সরকারের বিরোধী স্থানীয় মিলিশিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের পর গ্রামে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

একজন বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, মঙ্গলবার পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ)-এর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই জাতীয় দলগুলি গঠিত হয় এবং তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়িতে তৈরি অস্ত্র দিয়ে লড়াই শুরু করেছে।

তিনি বলেন, পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা গ্রামে ফিরলে নিরাপত্তা বাহিনী গ্রামের দক্ষিণ পাশে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করে। বলতে গেলে, পুরো গ্রাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মিয়ানমারে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ড্যান চাগ এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘খবর এসেছে যে, ম্যাগওয়েতে জান্তা সরকার একটি পুরো গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। প্রবীণ বাসিন্দাদের হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে যে, সেনাবাহিনী ভয়াবহ অপরাধ অব্যাহত রেখেছে এবং মিয়ানমারের জনগণের প্রতি তাদের কোনও শ্রদ্ধাবোধ নেই।’

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অবশ্য অগ্নিসংযোগের জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করা হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি জানিয়েছে, তারা অগ্নিসংযোগের যে খবর প্রচার করেছে অন্য যে কোনও মিডিয়া সেটির বাইরে ভিন্ন কারণ প্রচারের মানে হচ্ছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সেনাবাহিনীর ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে চাইছে।

অং সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা দখল করে বর্মি সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে উঠলে অ্যাকশনে যায় জান্তা সরকার। হত্যা করা হয় আট শতাধিক বিক্ষোভকারীকে। রাজপথে বিক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়ে এলেও সেনা সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির বহু গোষ্ঠী। কদিন আগেই দেশটির চিন রাজ্যে প্রতিরোধ যোদ্ধারা ফাঁদ পেতে ২৭ জন সরকারি সেনাকে হত্যা করে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার কিন মা গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •