সিবিএন ডেস্ক:
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ে আছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। অভিযোগ উঠেছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তথ্য অনৈতিক এবং ভুলভাবে সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনইচসিআর)। আর এসব শরণার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য তাদের কোনও সম্মতি ছাড়াই মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এ ঘটনা দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিপুল সংখ্যাক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দীর্ঘদিন ধরেই নেপিদোর কাছে বার্তা পাঠিয়ে আসছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রত্যাবাসন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই টালবাহানা করেছে মিয়ানমার। এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। কিন্তু তাদের বেশি কিছু বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা-এইচআরডব্লিউ।

এইচআরডব্লিউ’র অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের ব্যক্তিগত তথ্য পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআর তাদের প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রভাবের বিষয়টি মূল্যায়ন করেনি। কিছু ক্ষেত্রে তথ্য শেয়ারের বিষয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মতিও নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের সম্মতি ছাড়া মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তথ্য পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ কয়েকটি আশ্রয়শিবিরে বহু রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিবন্ধন করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। রোহিঙ্গাদের সেবা ও সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনে তাদের পরিচয়পত্র সরবরাহে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশ সরকারের ব্যবহারের জন্য সংগৃহীত এসব তথ্য প্রতিবেশী মিয়ানমারকেও যে দেওয়া হবে তা রোহিঙ্গাদের অবগত করা হয়নি। সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের কথা বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র গবেষক বিলকিস উইলি বলেন, যেসব রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কারও কাছ থেকে সম্মতি চাওয়া হয়নি। অনেক রোহিঙ্গা আমাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’

মানবাধিকার সংস্থাটির সংকট ও সংঘাত বিষয়ক পরিচালক লামা ফাকিহ বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কার্যক্রম জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার নিজস্ব নীতিমালার বিপরীত। এতে শরণার্থীদের আরও বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, শরণার্থীদের বোঝার উপায় ছিল না যে ছবি, আঙুলের ছাপ ও বায়োগ্রাফিক উপাত্ত নেওয়া হচ্ছে, তা মিয়ানমারকেও দেওয়া হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিলে ইউএনএইচসিআরের কাছে বিস্তারিত প্রশ্ন এবং এর গবেষণার ফলাফল পাঠায়। গত ১০ মে তারা ইউএনএইচসিআর-এর কাছ থেকে এর জবাব পায়। ইউএনএইচসিআর কোনও রকম ভুল বা নীতি লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের যাবতীয় উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছে এবং এ বিষয়ে সম্মতির ভিত্তিতেই কাজ করেছে। সংস্থাটির দাবি, তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল শরণার্থীদের জন্য দীর্ঘকালীন সমাধান খুঁজে বের করা এবং কোনও রোহিঙ্গা যেন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে এক যৌথ নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে পূর্ববর্তী নিবন্ধনের সঙ্গে পরিপূরক হিসেবে যুক্ত করতে চেয়েছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •