রামু সংবাদদাতা:

রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর টেকপাড়ায় গৃহবধূ শামীমা আক্তার ডলির উপর স্বামী মোঃ রাসেলের অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ।

১৫ জুন থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়। যার থানা মামলা নং-৩০, জি.আর-২৮৪/২১।

এতে স্বামী মোঃ রাসেল ছাড়া সহযোগি হিসেবে তার মা শামসুন্নাহারকেও আসামি করা হয়েছে।

ভিকটিম শামীমা আক্তার ডলি বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

ঘটনার সুত্রে প্রকাশ, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব বোমাংখীলের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের কন্যা শামীমা আক্তার ডলির সাথে বিগত ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট ইসলামি শরিয়া ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিকাহ রেজিস্ট্রার মূলে ১০ লাখ টাকার দেনমোহর নির্ধারণ করে ৫লাখ টাকা নগদ ও ৫ লাখ টাকা বাকীতে রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের উত্তর টেকপাড়ার আবুল কালামের ছেলে মোঃ রাসেলের সাথে বিবাহ সম্পন্ন হয়।

নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা এজাহার সুত্রে জানা যায়, বিবাহের পরে কিছুদিন যেতে না যেতেই নির্যাতিতা শামীমা আক্তার ডলির শাশুড়ী শামসুন্নাহার ছেলেকে কুপরামর্শ দিতে থাকে এবং ডলির পিতার কাছ থেকে ২লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য স্বামী রাসেল চাপ দিতে থাকে। শামীমা আক্তার ডলির পিতার আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় ডলি স্বামীর পণের ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্বামী রাসেল তার মায়ের কু-প্ররোচনায় শামীমা আক্তার ডলিকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। অসহায় শামীমা আক্তার ডলি ভবিষ্যতে সুখের সংসারের আশায় স্বামীর নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেছে।

বিগত ৮মে দুপুর ১২টায় যৌতুক লোভী স্বামী রাসেল তার মায়ের কু-প্ররোচনায় স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলিকে পিতার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। শামীম আক্তার ডলি যৌতুকের দাবীকৃত ২ লাখ টাকা এনে দিতে পারবেনা বললে পাষণ্ড স্বামী ডলিকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকলে প্রতিবেশীরা ডলির আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে, পাষণ্ড স্বামী রাসেল স্ত্রী শামীমা আক্তার ডলির স্বর্ণালঙ্কার পরনের কাপড় কেড়ে নিয়ে এক কাপড়ে একা ডলিকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয় বলে শামীমা আক্তার ডলির দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন। পরে নির্যাতিতা অসহায় শামীমা আক্তার ডলি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গত ১৯ মে যৌতুক লোভী পাষণ্ড স্বামী রাসেলকে প্রধান আসামি করে রাসেলের যৌতুক লোভী মা শামসুন্নাহারকে ২নং আসামী করে রামু থানায় এজাহার দায়ের করেন। এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় রামু থানা পুলিশকে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এজাহারটি মামলা হিসাবে না নেওয়ার জন্য এক প্রকার চাপ দিতে থাকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, রাসেল মূলত: একজন অস্ত্রধারী, মাদকাসক্ত ও নারীলোভী। সে বন মামলাসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •