সিবিএন ডেস্ক:
মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মু্ক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর দেওয়া গার্ড অব অনারে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিত থাকা নিয়ে সংসদীয় কমিটি আপত্তি তোলায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। এ আদেশ যেন বাস্তবায়ন না হয় সেজন্য তিনি সংসদে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সাংসদ শিরীন আখতার এ দাবি করেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ তুলে ধরে শিরীন আখতার বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর যে সম্মান প্রদর্শন করা হয়, তাতে যেন নারী ইউএনও উপস্থিত না থাকেন সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে সেই সুপারিশ করা হয়েছে। আমি বিস্মিত, হতবাক ও ব্যথিত যে আমার সহকর্মীরা, এই সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্যরা এমনটি উত্থাপন করতে পেরেছেন।

এ সময় তিনি সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা তুলে ধরে বলেন, নারী-পুরুষে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। সেই দেশে যখন এই ঘটনা ঘটে তখন আমরা স্তব্ধ হয়ে যাই। জানাজার সঙ্গে সম্মান প্রদর্শনের কোনো সম্পর্ক নেই।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিরীন আখতার বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী ও সফল নেতা হিসেবে পৃথিবীজুড়ে সুনাম অর্জন করেছেন। আজকে আপনি স্পিকারের পদে বসে আছেন। এই সংসদে আমার বোনেরা সব বসে আছেন।

তিনি আরও বলেন, একটি জেলায় একজন জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি দিয়ে বলেছেন, কোনো হিন্দু ম্যাজিস্ট্রেট যেন মুসলমান বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদর্শন না করেন। কী অবস্থা তৈরি হচ্ছে আমাদের দেশে! যখন আমরা জঙ্গিবাদের উত্থান দেখি, ফতোয়াবাজি দেখি, দেখি মৌলবাদের আস্কারা-আস্ফালন। সেই সময় এ ধরনের ঘটনা যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থেকে আসে, তা কিছুতেই বরদাস্ত করা যায় না।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন (রোববার) সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর নারী ইউএনও উপস্থিত থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয়েছে গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খুঁজতে। সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নারী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •