এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া:

করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে দ্বিতীয় দফায় স্থগিত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচন। এই অবস্থায় নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ বারবার ভন্ডুল হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে নেমে দেখা দিয়েছে হতাশা। অন্যদিকে বারবার নির্বাচন স্থগিত হবার কারণে নির্বাচনী সবধরণের খচর বেড়ে চলছে প্রার্থীদের। এতে অনেক প্রার্থী ভোটারদের কাছ থেকে গা লুকিয়ে থাকার চেষ্ঠা করছেন।

পৌর নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন পরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়া ভোটের আমেজ আবারো ভাটা পড়ায় সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। যথাসময়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্টিত না হওয়ায় পৌরসভার উন্নয়ন কাজও স্থবির হয়ে পড়েছে। আগে থেকে শুরু করা কাজ যথাসময়ে শেষ না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলেও ধারণা করছেন অনেকে।

প্রসঙ্গত: প্রথমদফায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১১ এপ্রিল নির্বাচন হবার কথা থাকলেও করোনা সংক্রমণের উর্ধ্বগতির কারণে শেষমুর্হুতে এসে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেন।

এরপর গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন ঘোষনা দেন স্থগিত থাকা সব পৌরসভা এবং প্রথমধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮ জুন। এই ঘোষনার পর মুলত চকরিয়া পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ফের প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। এরই মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে নির্বাচন কমিশন এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে করোনা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সব পৌরসভাসহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিকে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে দুই মেয়র প্রার্থীদের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে হামলার ঘটনাও হয়েছে। দীর্ঘদিন নির্বাচন স্থগিত থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ আরো হতে পারে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দা ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চকরিয়া উপজেলা সভাপতি হাজী আবু মো.বশিরুল আলম বলেন, পরপর দুই বার ভোটের তারিখ পরিবর্তন করায় ভোটারের মাঝে আগের সেই আমেজ এখন আর নেই। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেক প্রার্থীও হতাশা প্রকাশ করেছেন।

চকরিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, নির্ধারিত সময়ে ভোট অনুষ্টিত না হওয়ায় প্রার্থীদেরকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও এক ধরনের হতাশা বিরাজ করে।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রেজাউল করিম বলে, ভোটারদের চাঙ্গা রাখতে প্রতিনিয়ত এলাকায় এলাকায় যেতে হচ্ছে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে চালিয়ে যেতে হবে প্রার্থীদের।

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পৌরসভার নির্বাচন স্থগিতের ঘোষনা দেন। পরবর্তী ঘোষনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রচার প্রচারণাও বন্ধ থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •