প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

“স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। এই সুনাম ধরে রাখার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কারও ব্যক্তিগত পয়সা কামানোর প্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিটি স্তরে খবরা-খবর নিচ্ছি। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত তথ্য পাচ্ছি এবং নিচ্ছি। কাজেই এখানে দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। যারা এই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাবছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয় পরিদর্শনকালে জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এডহক কমিটি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এম এ ওয়াহহাব এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি আমার প্রতিটি কাজেই দেশপ্রেম ধরে রাখার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে শেষ বয়সে এসে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি তা যথাযথভাবে পালন করবো। করোনার এই সময়ে যুব সদস্যরা যেভাবে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, প্রতিটি স্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও একইভাবে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। কক্সবাজার রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি নিয়ে নানাধরণের কথা শুনা যায়। আমরা চাই সুনামের সাথে অন্যান্য জেলার মতো কক্সবাজারের কমিটিও ইতিবাচক কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। কক্সবাজার ইউনিট ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবিরও কক্সবাজারে। এখানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক বসবাস করছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম কক্সবাজার জেলা সফর করলাম।”

আলোচনা সভায় কক্সবাজার জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো: আজরু সাফদারের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা ইউনিটের সম্পাদক মো: খোরশেদ আলম। এসময় তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত যেসকল কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে তার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে জেলা ইউনিট কার্যালয়টির যে জমিতে স্থাপন করা হয়েছে তা সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নিজস্ব কোনো জমি নেই। বর্তমানে খাস খতিয়ানভুক্ত জমিটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নামে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তী দেওয়াটা খুবই প্রয়োজন। তিনি এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। এর উত্তরে মহাসচিব বলেন ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, জমিটি যাতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নামে বন্দোবস্তি দেওয়া হয় তার সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সোসাইটির কেন্দ্রীয় এডহক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নুর উর রহমান, মহাসচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন (সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব), ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, জেলা ইউনিট কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া, ডিআর ও যুব স্বেচ্ছাসেবক বিভাগের পরিচালক ইকরাম ইলাহী চৌধুরী, পিএমও ও আরএমও প্রকল্পের পরিচালক এম এ হালিম, পরিচালক ইমাম জাফর সিকদার, আইএফআরসি এর অফিস প্রধান সঞ্জীব কাপলে। উপস্থিত ছিলেন- জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান আয়াছুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন, মো: জাহাঙ্গীর আলম ও শোয়েব ইফতেখার সহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি।

আজ শনিবার সকালে লাবণী পয়েন্টের পিএমও ও এমআরও অফিস পরিদর্শন এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে কথা বলবেন কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান। একইদিন দুপুরে টেকনাফের এমসিএইচ সেন্টার পরিদর্শন করবেন। এরপর কক্সবাজার ফিরে আসবেন। রবিবার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালনাধীন এমআরও ও পিত্রমও প্রকল্পের ক্যাম্প-৪ এর খাদ্যসরবরাহ কেন্দ্র, ক্যাম্প-১২ এর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১৫ পরিদর্শন করবেন।পরিদর্শনকালে রেড ক্রিসেন্টের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কর্মরতদের সাথে কথা বলবেন। সোমবার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও ইউএনএইচসিআর কার্যালয়ে কর্মরত দায়িত্বশীলদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। দুপুরে দলটি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •