সিবিএন ডেস্কঃ
করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত স্ত্রী, তাঁ দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছেন রাতেই। আশপাশের আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীরাও  গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। নিজ ঘরে পড়ে থাকা লাশের ধারে কাছে কেউ আসেনি। ততক্ষণে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে।

অবশেষে ১৫ ঘণ্টা পর খবর পেয়ে শ্যামনগর মহসীন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী হাফিজ, মিলন ও জামাল বাদশা জাতিধর্ম বিবেচনায় না এনে সৎকার করলেন করোনায় মৃত সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবক বিধান চন্দ্র মণ্ডলের।

আজ শুক্রবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ওই তিন শিক্ষার্থী।
এলাকাবাসী জানায়, গৌরীপুর গ্রামের দিনমজুর বিধান চন্দ্র মণ্ডল (৩৭) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কয়েকদিন পর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই মারা যান বিধান।
গ্রামবাসী জানায়, চোখের সামনে তাঁর মৃত্যু দেখেই ভয়ে স্ত্রী শৈব রাণী মণ্ডল বাড়ি ধেকে পালিয়ে যান তাঁর দুই ছেলেমেয়ে নিয়ে। খবর পেয়ে প্রতিবেশী স্বজনরাও লাশের সৎকার করার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাতভর বিধানের লাশ পড়ে থাকে ঘরেই।
আজ শুক্রবার সকালে এ খবর আসে শ্যামনগরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিওর কাছে। এই সংগঠনের তিন কলেজ শিক্ষার্থী যুবক ধর্মকে বিবেচনায় না এনে বিধানের লাশ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘর থেকে বের করে আনেন। তারাই তাঁকে নিয়ে যান একটি শ্মশানের ধারে। সেখানেই নিজেরা মাটি খুঁড়ে শায়িত করেন বিধান চন্দ্র মণ্ডলের মরদেহ।
গ্রামবাসী আরও জানায়, মৃত্যুর আগে বিধান চন্দ্র তাঁকে আগুনে দাহ না করে মাটিতেই সমাধি দিতে বলেছিলেন।
এ ঘটনা জানাজানি হতেই শিক্ষার্থী হাফিজ, মিলন ও জামাল বাদশাকে এলাকাবাসী অসাম্প্রদায়িকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় অভিনন্দন জানায়।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ‘বিধানের লাশের সৎকার হচ্ছে না জানতে পেরে তিনি ও অধ্যক্ষ জাফরুল্লাহ বাবু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের অনুরোধ করেন। তারা কেউই রাজি না হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিওর তিন মুসলিম যুবক তাঁর সৎকার করেছেন। মৃত্যুর আগে বিধান বলেছিলেন তাকে আগুনে দাহ না করে সমাধি দিতে। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে সমাধি দেওয়া হয়েছে।’
চেয়ারম্যান আরও জানান, তিন কলেজছাত্র হাফিজ, মিলন ও জামাল বাদশা এ এলাকায় অসাম্প্রদায়িকতার এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •