সিবিএন ডেস্ক:
নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে ফের রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে তাদের ভাসানচরে নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

সচিব বলেন, কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গাদের জায়গা সঙ্কট থাকায় তাদের জন্য ভাসানচরে একটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ হলো তাদের দেশে মান মানসম্মতভাবে ফেরত দেয়া, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ইউএন। যেহেতু এটা একটা দীর্ঘ প্রসেস, তাই আপাতত এই ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, যেহেতু রোহিঙ্গারা যেখানে আছেন সেটি পাহাড়ি এলাকা, কিছুদিন আগেও প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জায়গায় দেয়াল ধসে গেছে। সে জন্য গত ৬ তারিখ মুখ্য সচিবসহ সভা হয়েছে। সেখানে ১০ জন অ্যাম্বাসেডর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপোর্টিং করা হয়েছে ভাসানচরে এই মূহুর্তে আছে ১৮ হাজার ৮৯০ জনের মতো মানুষ।

এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেয়ার টার্গেট রয়েছে জানিয়ে মো. মোহসীন বলেন, কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যাবে সেজন্যই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রথম মিটিং হয়েছে। সেখানে আমরা একটি টাইমলাইন ঠিক করেছি। ১৭ জুনের মধ্যে একটি পলিসি ডকুমেন্টের ড্রাফট তাদের পক্ষ থেকে দেবেন। এর মধ্যেও আমরা ফরমালি আলাপ-আলোচনা করব। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, তবে এমন কোনো বিষয় নয় যা সেটেল করা যাবে না। তারপরও আমাদের আরও ১-২টা মিটিং লাগবে। সেগুলো শেষ করে আশা করছি সেপ্টেম্বরের শেষের দিক থেকে আমরা আবার রোহিঙ্গাদের নেয়া শুরু করব। এভাবেই আমাদের আজকের আলোচনা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘আমরা অপারেশন করছি একটু ভিন্ন জায়গায়। সেটি কক্সবাজার থেকে জিওগ্রাফিকালি ভিন্ন, সেজন্য কিছু বিষয় আমাদের আছে। সেটি নিয়ে তাদের কিছু জানার আছে, আমাদেরও কিছু পরিষ্কার করার আছে। সেজন্য আমরা কীভাবে অপারেশন চালাব। কীভাবে তাদের সহায়তা করা যায়, তারা কোন কোন প্রেক্ষাপটে আমাদের সহায়তা করত পারবে সেসব বিষয়গুলো রয়েছে। পলিসি ইস্যু হলে আমাদের কার্যক্রমে সমস্যা হবে না। তখন বাকিদের স্থানান্তরের কাজ শুরু করব।’

ভাসানচরে নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে উল্লেখ করে সচিব জানান, ভাসানচরে ব্যারাক হয়ে গেছে, আবাস হয়ে গেছে। সেখানে ১২০টা সেল্টার আছে। খাদ্য রাখার জন্য গুদামও তৈরি হয়েছে। যাতায়াতের জন্য চেয়ারম্যান ঘাটে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। এছাড়া সেখানে ২০০-এর বেশি পুলিশ-এপিবিএন কাজ করছে। আনসার ব্যাটেলিয়ন নেয়া হবে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি জনস ভ্যান ডার কালাউ, আইএমের মিশন প্রধান গিওর্গি গিগাউরি, ডাব্লিউএফপি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মি. রিচার্ড রেগান।

সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •