তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:
চলমান বর্ষায় পাহাড় ধসের শঙ্কায় আগামী তিন মাস বন্ধ থাকবে বায়েজিদ বোস্তামী থেকে সীতাকুণ্ড ফৌজদারহাট লিংক রোড।

মঙ্গলবার সন্ধা ৬ টার পর থেকে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষায় পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী তিন মাসে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন বর্ষাকালে তিন মাস বায়েজিদ বোস্তামি থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত লিংক রোডে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ থাকবে। দুটি কারণে লিংক রোডটি আজ ( মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ওভার ব্রিজ নির্মাণ ও অপরটি হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের রক্ষণাবেক্ষণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য বায়েজিদ বোস্তামি থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। চার লেনবিশিষ্ট সড়কটি নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২০ কোটি টাকা। একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০১৯ সালের জুনে শেষ করার কথা ছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আবার কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বায়েজিদ বোস্তামি থেকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কে ছোট বড় ১৮টি পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ-ছয়টি পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিনই সড়কটি দিয়ে প্রচুর যানবাহন চলাচল করে। এছাড়া সড়কটি দেখতে প্রচুর মানুষ সেখানে যায়। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সড়কটি নির্মাণের জন্য অধিদফতর থেকে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়। এ জন্য ১০ কোটি টাকার জরিমানা করা হয় সিডিএকে ।

ঝুঁকিপূর্ণ খাড়া পাহাড়গুলো নতুন করে কেটে সুরক্ষার জন্য গত বছরের ২৩ মার্চ পরিবেশ অধিদফতরে পুনরায় আবেদন করে সিডিএ। ওই আবেদনে নতুন করে ৩ লাখ ৩২ হাজার ঘনমিটার পাহাড় কাটার অনুমতি চায় সংস্থাটি। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো কাটা ও সংরক্ষণ কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ প্রতিবেদন চায় পরিবেশ অধিদফতর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •