মো: নুরুল করিম আরমান, লামা:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড়ের পানি চলাচলের নালায় পড়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি বোধিছড়াস্থ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এলাকায় সোমবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলো- চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রানীরহাট ইউনিয়নের চকবরহম গ্রামের বাসিন্দা মো. রজব আলীর ছেলে আবদুল কাদের জিলানী (১২) ও ঠাকুরগাঁ জেলার সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁ ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বুলবুল মোস্তাফিজের ছেলে শ্রেয় মোস্তাফিজ (১২)। তারা উভয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় পুরো কোয়ান্টাম এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সূত্র জানায়, শিক্ষার্থী আবদুল কাদের জিলানী ও মো. শ্রেয় মোস্তাফিজ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সবুজায়ন আবাসিকের ছাত্র। তারা সহপাঠিদের সাথে সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে খেলারচ্ছলে পাহাড়ের পানি চলাচলের নালার পানিতে খেলতে যায়। এ সময় স্রোতের টানে পানি চলাচলের পাইপের ভিতর ঢুকে পড়ে তারা। সহপাঠিরা এ ঘটনা দেখে চিৎকার শুরু করলে আরিফ নামের এক মাঠ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ততক্ষণে দুই শিক্ষার্থীই স্রোতের টানে ঝিরিতে পড়ে যায়। পরে ঝিরি থেকে দুই শিশু শিক্ষার্থীদেরকে উদ্ধার করে কাছাকাছি লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আবদুল কাদের জিলানী ও শ্রেয় মোস্তাফিজকে মৃত ঘোষনা করেন।

মৃত দুই শিক্ষার্থীর সহপাঠি ইসমাইল, আরিয়ান ও সাব্বির জানায়, আবদুর কাদের জিলানী ও শ্রেয় মোস্তাফিজ আমাদের বন্ধু ও একই ক্লাশে একসাথে পড়ালেখা করতাম। সোমবার সকালে আমরা সবুজায়নের পশ্চিমে গর্তের পানিতে খেলতে গিয়ে পানি চলাচলের ১৬ ইঞ্চি পাইপের ভিতর ঢুকে যায় জিলানী ও মোস্তাফিজ। তাৎক্ষনিক বিষয়টি আমরা মাঠ কর্মকর্তাকে জানাই।

কোয়ান্টাম স্কুল এন্ড কলেজের হোস্টেল সুপার মো. তানিম বলেন, বাচ্ছাদেরকে একাধিকবার ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তারা চোখ ফাঁকি দিয়ে পূণরায় ওই স্থানে খেলতে গেলে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোয়ান্টাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ আলমগীর জানান, মৃত দুই শিক্ষার্থীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •