সিবিএন ডেস্ক:
মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ রাজ্যের ডেমোসো টাউনশিপে সেনাবাহিনীর অবিরত বোমা বর্ষণের পর গ্রামের সব মানুষ জঙ্গল পালিয়েছেন। ২১ মে থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রতিরোধ গোষ্ঠী কারেন্নি পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সের (কেপিডিএফ) মধ্যে টানা দশ দিনের সংঘর্ষে ডেমোসো, লইকাউ ও হপ্রুসো টাউনশিপের প্রায় ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

মার্চ মাসের শেষ দিকে যে কয়েকটি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে ওঠেছে সেগুলোর একটি হলো কেপিডিএফ। এছাড়া কয়েক দশক ধরে চলমান জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সংঘাতও মাথাচাড়া দিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে গণতন্ত্রপন্থীরা রাজপথে আন্দোলনে নামলে আট শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ছয় হাজার। এই পরিস্থিতি অনেককেই সশস্ত্র প্রতিরোধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

কায়াহ রাজ্যের এক স্থানীয় সম্প্রদায়ের নেতা বলেন, যখন বার্মিজ বাহিনী নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিকদের তুলে নিচ্ছে, হত্যা করছে তখন মানুষের সামনে যেভাবে সম্ভব নিজেকে রক্ষা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সেনাদের মতো তাদের আগ্নেয়াস্ত্র নেই। কিন্তু অশুভকে ঠেকাতে তাদের মনোবল ও দৃঢ়তা রয়েছে।

১৪ মার্চ সর্বশেষ নির্বাচনে বিজয়ী ও ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতাদের গঠিত কমিটি সিআরপিএইচ জনগণের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ৫ মে এই কমিটি জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন, যারা সামরিক শাসনের বিরোধিতায় ছায়া সরকার পরিচালনা করছে। তারাও জাতীয়ভিত্তিক পিপল’স ডিফেন্স ফোর্স (গণ নিরাপত্তাবাহিনী) গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। যা দেশটির বিক্ষিপ্ত জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও প্রতিরোধ বাহিনীকে একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর অধীনে একত্রিত করার দিকে একটি পদক্ষেপ।

কায়াহ এলাকার বেসামরিক যোদ্ধারা পিপল’স ডিফেন্স ফোর্সে যোগ দেয়নি। কিন্তু ২ জুন থেকে তারা স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী কারেন্নি ন্যাশনালিটিজ ডিফেন্স ফোর্সে (কেএনডিএফ) যোগ দিয়েছে।

গত ১০ বছরে ২৪০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব কারেন্নি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সম্বল শিকারের রাইফেল। সশস্ত্র প্রতিরোধের এলাকায় অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারে দ্বিধা করে না সেনাবাহিনী।

কারেন্নি হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের বন্যা কুন অং বলেন, ২১ মে থেকে সেনাবাহিনীর আগের মতো নিপীড়ন প্রত্যক্ষ করছি। তারা দেখামাত্র গুলি করছে। রাজনৈতিক সংকটে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বেসামরিক মানুষেরা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, কেপিডিএফ দাবি করেছে তারা সেনাবাহিনীর ১২০ সদস্যকে হত্যা করেছে। ২১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত কায়াহ ও শান রাজ্যে ৮ বেসামরিক যোদ্ধা ও ২৩ বেসামরিক নিহত হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •