তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামে সকাল থেকে বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টির কারণে নগরীর দুই তৃত্বীয়াংশ এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানি, এমনকি গলা পানিতেও ডুবে গেছে। বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সকালে যাদের অফিস ছিল তাদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। অন্যদিকে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কা। এ শঙ্কায় পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চট্টগ্রামে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল দোকানপাট ও নিচতলার বাসা-বাড়িতে জলাবদ্ধতার কারণে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

এদিকে রোববার সকাল থেকেই টানা প্রবল বর্ষণে নগরীর প্রধান সড়ক, গলি, উপগলি পানিতে তলিয়ে যায়। বাসা বাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কক্ষেও পানি ঢুকে পড়ে। নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, চান্দগাঁও, খতিবের হাট, বাকলিয়া, চাক্তাই, আছাদগঞ্জ, মোগলটুলি, আগ্রাবাদ, ট্রাঙ্ক রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, দেওয়ানহাট, আসকারাবাদ, মনসুরাবাদ, পাহাড়তলী, হালিশহর, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, বাকলিয়া ডিসি রোড, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুরতলাসহ নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।

অপরদিকে, চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ ও কোরবানিগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও প্লাবিত হয়েছে। এতে ব্যহত হয় তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম।

নগরীর ফ্লাইওভারগুলোতে পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পানি উপচে ফ্লাইওভার বেয়ে নীচে পড়ছে। ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোতে পানি ঢুকে রাস্তার মাঝে বিকল হয়ে আছে অনেক যানবাহন।

এছাড়া নগরীর বহদ্দারহাট, বাকলিয়াসহ নীচু এলাকা কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। হঠাৎ এ বর্ষণে এসব নীচু এলাকার বাসিন্দারা জিনিষপত্র সরাতে পারেননি। ঘরের মধ্যে হাঁটু পানির মধ্যেই বসে আছেন। কেউ কেউ পানি সরানোর ব্যবস্থা করলেও বাসার পাশের নালা বন্ধ থাকায় পানি সরছে না।

চকবাজার, রাহাত্তারপুল এলাকার সেমিপাকা কলোনির প্রতিটি বাসায় হাঁটু পানিতে বাসিন্দারা। দুপুরের রান্না কিভাবে সারবেন তা তাদের জানা নেই। নগরীর চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তার জানান, সকালের বৃষ্টিতে চান্দগাঁও আবাসিকের অধিকাংশ এলাকা কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। অফিসে পৌছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়েছে।

নগরীর সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষকে এরকমই ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক সড়কে কোমর সমান পানির কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তাদের সরাতে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, ১৮টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। এজন্য চট্টগ্রামে ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষ বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পরপর নিজেরাই সরে গেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর, বায়েজিদ, মতিঝর্ণাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিপুলসংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষ বসবাস করেন ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •