সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
কক্সবাজারের অন্যতম পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন কক্সিয়ান এক্সপ্রেসে এর উদ্যোগে ৫ই জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ উদযাপন সম্পন্ন করেছে।

৫ই বিকেল ৫টায় কক্সবাজার শহরের আলীর জাঁহাল স্টেশন চত্বরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, জনপ্রতিনিধি ও কক্সিয়ান এক্সপ্রেসের পরিবেশবাদী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই দিবস উদযাপিত হয়।

উক্ত পরিবেশ দিবসের আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বিশ্বের দীর্ঘতম পর্যটনের শহর কক্সবাজারের পরিবেশকে সংকটাপন্ন ও উদ্বেগজনক ব্যখ্যা দিয়ে বলেন, ১৫৫ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট দ্বিখণ্ডিত ও কয়েক কিলোমিটার সৈকত দখল করে জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন শিল্প হুমকির মূখে ফেলা হয়েছে।

কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে শত-শত একর বনভূমি সরকারি-বেসকারি স্থাপনা নির্মাণের নামে উজাড় করা হচ্ছে। সবুজ বনায়ন ধংস করে, পাহাড় উজার করে পরিবেশ ও বণ্য প্রাণীকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। সরকারি অনেক সংস্থা তাঁদের নিজস্ব ক্যাম্প স্থাপণের নামে যত্রতত্র ভাবে সমুদ্র ও পাহাড় দখল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এছাড়াও খাস খতিয়ানহীন শতশত একর বনায়ন দখল করে অনেক দুদর্ষ পাহাড় খেকোরা বহুতলীয় ভবন নির্মাণ করেছে।

কক্সিয়ান এক্সপ্রেস এর সেক্রেটারি তারেক হায়দারের সঞ্চালনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে সভাপতি ইরফানুল হাসান বলেন, কক্সবাজারে সরকারের যতো উন্নয়ন হচ্ছে তারচেয়ে বেশি নদী দখল-দূষণ ও বনভূমি উজাড় হচ্ছে। উন্নয়ন যদি হয় পরিবেশ ধংস করে, তাহলে মানুষ সেই উন্নয়ন কিভাবে ভোগ করবে। পরিবেশকে বাদ দিয়ে উন্নয়নযজ্ঞ মানুষের জন্য নয়। বাঁচর মতো পরিবেশ না রেখে পরিবেশ বিমুখ এই তথাকথিত উন্নয় মানুষ চাই না। অচীরেই কক্সবাজারের শ্যামল পরিবেশ ফিরিয়ে এনে সরকারি উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান পরিবেশবাদী এই বক্তা।

উক্ত অনুষ্ঠানে নদী পরিব্রাজক দল কক্সবাজার জেলা সহ সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাহাব উদ্দিন সিকদার বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে কক্সবাজারকে পর্যটন স্পটগুলোকে দখল করে বিশ্বের মানুষকে একটি দখল চক্র পর্যটন বিমুখ করছে। পর্যটনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে এনে এসব পাহাড় খেকো ও দখলদার রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। তিন আরও বলেন, কক্সবাজারের একমাত্র নদী বাকঁখালীকে গিলে খাচ্ছে কিছু স্বার্থন্বেসী রাজনৈতিক মহল। অচীরেই শহরের প্রাণ বাঁকখালীকে নদী খেকোদের পেট থেকে বের করে পরিবেশের দখলে আনার পরামর্শ দেন এই জনপ্রতিনিধি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কক্সিয়ান এক্সপ্রেসের সহ সভাপতি আমির সোলাইমান রুমেল, রবিউল করিম আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক আরফাত উদ্দিন সাগর, সদস্য আমিনুল রিয়াদ, আজাদ উদ্দিন। সাইমুন সংসদ এ দলের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন সিকদার, কক্সবাজার ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির কার্যকরী সদস্য ইমরাম হোসেন নবী ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।