মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী ২৬০০ মেগাওয়াট কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ (আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্রজেক্ট) প্রকল্পের জন্য ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা ঘোষিত জাতীয় বাজেটের প্রকল্প ভিত্তিক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ। বৃহস্পতিবার ৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কর্তৃক ঘোষিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে এ অর্থ বের রাখা হয়।

আবার মহেশখালীর কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহযোগী প্রকল্পের অংশের জন্য ২০৯ কোটি টাকা পৃথক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজারের আরো ২ টি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তারমধ্যে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মায়ানমারের নিকটে গুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কুতুবদিয়া দ্বীপ, হাতিয়া দ্বীপ ও নিঝুম দ্বীপে নির্ভরযোগ্য ও টেকসই বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের জন্য ১৯৮ কোটি টাকা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়ার শীর্ষে রয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছর বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বাজেটে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্প। এ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।চতুর্থ অবস্থানে ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে (লাইন-৬) বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পঞ্চম অবস্থানে থাকা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সপ্তম অবস্থানে থাকা সরকারের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্প পেয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। অষ্টম অবস্থানে থাকা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, নবম অবস্থানে থাকা এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ৩ হাজার ৫১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং দশম অবস্থানে থাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •