আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পর চিহ্নিত গণকবরে প্রথমবারের মতো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার দেয়াঙ পাহাড়ের মরিয়ম আশ্রম এলাকায় গণকবরে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে পরিদর্শন করে গণকবর চিহ্নিত করেন কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.ফারুক চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা।

কর্ণফুলী পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে গণকবরে শ্রদ্ধা জানানোর সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো.ফারুক চৌধুরী,বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহেদুল হক,আজিজুল হক,এশিয়াটিক সোসাইটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক জামাল উদ্দিন,জুলধা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম,রিচার্ড ডি রোজারিও,মাইকেল মরেজ,কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান আরজু,বড়উঠান ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বাহাদুর খান,শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির উদ্দিন। ওই সময় শহীদ পরিবারের পক্ষে তেজেন্দ্র দাশ,দীননাথ দাশ,তপন দাশ,মিন্টু দাশ,কর্ণফুলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নৌ প্রকৌশলী রামচন্দ্র দাশ চন্দন,সহ সভাপতি পুলক দাশ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মান্না দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,১৯৭১ সালের ৩১ মে সকাল ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলে সম্প্রদায়ের ৬ জন ও মুসলিম পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৯ জনকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকবাহিনী। পরে মুসলিম পরিবারের দুধু মিয়া,আবুল হোসেন ও আবদুল হাকিমের লাশ স্বজনরা নিয়ে গেলেও জেলে সম্প্রদায়ের হরিপদ জলদাশ,লালমোহন জলদাশ, নিতাই জলদাশ,নিকুঞ্জ জলদাশ,রায়মোহন জলদাশ,জীবনহরি জলদাশকে দেয়াঙ পাহাড়ে সমাধিস্থ করা হয়। তারা প্রত্যেকে উপজেলার পশ্চিম জুলধা গ্রামের পাইকের গোড়া এলাকার বাসিন্দা। ওই দিন পাকবাহিনীর গুলিতে আহত হন মহিন্দ্র জলদাশ,রবিন্দ্র দাশ ও মধুসুদন দাশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •