স্পোর্টস ডেস্ক:
আসন্ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পাকিস্তান দলে ডাক পেয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটকিপার মঈন খানের ছেলে আজম খান।

যদিও শারীরিক গঠন নিয়ে বেশ সমালোচিত আজম খান। তিনি বেশ স্থূলকায়। গত অক্টোবরের আগে প্রায় ১৩০ কেজি ওজন ছিল তার। ক্রিকেটে এমন গঠন মানানসই নয় বলে অনেকেই তার সমালোচনা ও কটাক্ষ করেন সে সময়। যা এখনও চলছে।

আর সমালোচকদের কথা মাথায় নিয়ে কঠোর শ্রম দিয়েছেন আজম খান। ৩০ কেজি ওজন কমালেন তিনি।

তার পুরস্কার হিসেবে আজম খানকে দলে নিলেন পিসিবি প্রধান নির্বাচক মোহাম্মদ ওয়াসিম।

বলতে গেলে ৩০ কেজি ওজন কমিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে জাতীয় দলে নিজের জায়গা করে নিলেন মঈনপুত্র।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, ‘আমরা চারজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে দলে ফিরিয়েছি এবং ঘরোয়ায় পারফরম্যান্সের জন্য আজম খানকে দলে ডেকেছি।’

ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফরের জন্য তিন ফরম্যাটের আলাদা স্কোয়াড ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ঘোষিত টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে আজম খানই একমাত্র নতুন মুখ।

গত অক্টোবরেই পিসিবির ওয়েবসাইটে ওজন কমানোর কথা বলেছিলেন আজম।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমি গত বছরই বুঝতে পেরেছিলাম শরীরের ওজন বেশি। কিন্তু এরপর ৩০ কেজির বেশি ওজন কমিয়েছি। এখন ফিটনেস নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে চাই। এখনো অনেক দূর যেতে বাকি।’

তবে শারীরিক স্থূলতা নিয়ে যতোই হাস্যরসের বস্তু হন না কেন পারফরম্যান্সের বিচারে আজম খান জাতীয় দলে ঠাঁই পাওয়ার যোগ্য। অন্যতম সেরা মারকুটে ব্যাটসম্যানদের একজন তিনি।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৩৫ ইনিংসে ১৫৭.৪১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিংয়ের কীর্তি আছে তার। ৭৪৩ রান জমা করেছেন ইতোমধ্যে।

পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্স ও গল গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ভালো পারফরম করেছেন।

কোয়েটার হয়ে পিএসএলে তার স্ট্রাইকরেট ১৪৪-এর বেশি।

ইংল্যান্ডে আগামী ৮ থেকে ২০ জুলাই তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান। এর পর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজে উড়ে যাবে বাবর আজমের দল। সেখানে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট খেলবে।

একনজরে পাকিস্তানের ঘোষিত স্কোয়াড:
ওয়ানডে : বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান (সহ-অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ শফিক, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, হারিস সোহাইল, হাসান আলী, ইমাম উল হক, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আঘা, সরফরাজ আহমেদ, সাউদ শাকিল, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও উসমান কাদির।

টি-টোয়েন্টি : বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, আরশাদ ইকবাল, আজম খান, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হায়দার আলী, হারিস রউফ, হাসান আলী, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, সরফরাজ আহমেদ, শাহীন শাহ আফ্রিদি, শার্জিল খান ও উসমান কাদির।

টেস্ট : বাবর আজম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান, আব্দুল্লাহ শফিক, আবিদ আলী, আজহার আলী, ফাহিম আশরাফ, ফাওয়াদ আলম, হারিস রউফ, হাসান আলী, ইমরান বাট, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ নাওয়াজ, নাসিম শাহ, নোমান আলী, সাজিদ খান, সরফরাজ আহমেদ, সাউদ শাকিল, শাহীন শাহ আফ্রিদি, শাহনাওয়ার দাহানি, ইয়াসির শাহ ও জাহিদ মাহমুদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •