মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য কক্সবাজার জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরো ২ মাস অর্থাৎ আগামী জুলাই পর্যন্ত থাকবে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি মঙ্গলবার ১ জুন সিবিএন-কেএ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ কাজে ২টি গ্রীড লাইন পড়েছে। এই ২টি গ্রীড লাইন সরানোর কাজ করতে আগামী জুলাই পর্যন্ত সময় লাগবে। তবে দিনের বেলায় কাজ করতে থাকায় রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা যায়।

আবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজার শহরের লাবনী পয়েন্ট থেকে লিংকরোড পর্যন্ত ৪ লেনের সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি সরাতে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। একাজ চলতি জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে। চলতি সপ্তাহে খুঁটি ও সঞ্চালন লাইনের কাজ একটু জরুরীভাবে শিফটিং করতে গিয়ে শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি এখন প্রায় সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, কক্সবাজারে মোট ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহও পাওয়া যায়। কোন ঘাটতি নেই। এ চাহিদার মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের ৭০ মেগাওয়াট ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৫০ মেগাওয়াট।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ কাজে যে ২টি সার্কিট পড়েছে তার যেকোন একটি বন্ধ করে সঞ্চালন লাইন স্থানান্তর করতে হয়। তখন শুধুমাত্র ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যায়। বাকী ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়না। ফলে অনেক সময় এ ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, কক্সবাজার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়া ৩ টি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত। পিজিসিবি দোহাজারী থেকে ২ টি সার্কিটের মাধ্যমে কক্সবাজার গ্রীড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নিয়ে আসে। সেখান থেকে পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) এবং আরইবি (পল্লী বিদ্যুৎ) চাহিদা মতো গ্রাহকদের সরবরাহ দিয়ে থাকে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিকল্প পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী চকরিয়া এলাকাকে সরাসরি দোহাজারী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের হাশেমিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ থেকে পূর্বে বাসটার্মিনাল পর্যন্ত সড়ক ৪ লেনে উন্নয়নের কাজ শেষ দিকে আসলে সেখানকার খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন স্থানান্তর করতে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখে সেসব কাজ করতে হবে বলে জানান- কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি।

এদিকে, উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধা হওয়ায় কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সম্মানিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •