মোঃ ফারুক, পেকুয়া:
রবিবার (২ মে) রাত ৮টায় এশারের নামাজ পড়েন জয়নাল আবেদিন। রমজানে প্রায় সময় তারাবির নামাজ পড়লেও সেদিন তারাবি না পড়ে তার কাছের বন্ধু আলী আকবরকে ডেকে নিয়ে ফুলতলাস্থ আছু সওদাগরের চায়ের দোকানের সামনে একটি টেবিল নিয়ে বসেন। প্রায় আধঘন্টা ওই দোকানের সামনে বসে জয়নাল আর আলী আকবর গল্প করেন।

রাত সাড়ে ৮টা। ওই সময় ফুলতালা-মহুরী পাড়া সড়ক দিয়ে বহু মামলার আসামি আবু ছৈয়দ ও নেজাম উদ্দিন ছোটনের নেতৃত্বে অস্ত্র ও কিরিচ নিয়ে প্রায় ৪০ জনের মত সন্ত্রাসী আছুর দোকানের সামনে এসে তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে।

দুই জনের পা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি করার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে আলী আকবর পশ্চিম দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আর জয়নাল আছুর দোকানের ভিতর ঢুকে পড়েন।

ওই সময় সন্ত্রাসীদের পুরো দল ভাগ হয়ে একটি দল পশ্চিম পার্শ্বে আলী আকবরকে কোপাতে শুরু করলে গুরুতর আহত হয়ে তিনি প্রাণ ভয়ে একটি বাড়ির পাশে গিয়ে অবস্থান নেন। তাকে দেখতে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা আছুর দোকানে চলে যায়।

তখন সন্ত্রাসীদের পুরো দল গুলিবিদ্ধ হয়ে আছুর দোকানে ঢুকে পড়া জয়নালকে শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপাতে শুরু করে। হাত ও পিঠে বেশ কয়েকটি কোপ দিয়ে আহত করেও তাকে যখন পরাস্থ করা যাচ্ছিলনা তখন মাথার ঘাড়স্থ শাহরগে কোপ দেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি চায়ের দোকানের ভিতর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ওই সময় কিছুদূরে অবস্থান করা আলী আকবর জয়নালের আত্ম-চিৎকার শুনছিল। বাঁচাও বাঁচাও উচ্চস্বরে অনেকক্ষণ চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে কিছু সন্ত্রাসী বাবুলের বাড়ির দিকে আর কিছু সন্ত্রাসী ফুলতলা-মহুরী পাড়ার সড়ক দিয়ে চলে যায়।

মহুরী পাড়ার সড়ক দিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীরা জয়নালের আত্মীয় রিফা আক্তার নামে এক স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে আহত করে।

মাত্র দুই মিনিটের মাথায় তারা কিলিং মিশন শেষ করে চলে গেলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করার পর গাড়িতে ওঠানোর পর জ্ঞান হারায় আলী আকবর। জয়নালও তার আগ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ছিল।

সোমবার দুপুরে এসব কথা বলছিলেন ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও কুপিয়ে আহত করার পরও সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী আলী আকবর।

তিনি মগনামা ইউনিয়নের আফজালিয়া পাড়ার রুস্তম আলীর ছেলে ও জয়নাল আবেদীন একই এলাকার মৃত নুরুন্নবীর ছেলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তিনি আরো বলেন, নিহত জয়নাল খুব সহজ সরল লোক ছিলেন। বেশ কয়েকবছর ধরে আমরা এক সাথে ব্যবসা ও একই সাথে চলাফেরা করেছি। রাতে কয়েক ঘন্টার ঘুম ছাড়া বাকিটা সময় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া একটা মিনিটের জন্যও বিচ্ছিন্ন হইনি। আবু ছৈয়দ-নেজাম উদ্দিন ছোটনসহ এজাহারনামীয় আসামী ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে চিরতরে বিছিন্ন করে দিল। চোখের সামনে সন্ত্রাসীরা নিরহ জয়নালকে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার মত পরিকল্পনা করলেও মহান আল্লাহর রহমতে বেঁচে যায়। এ কথা মনে পড়লে ঘুম আসেনা।

সন্ত্রাসীদের দুই মিনিটের কিলিং মিশনে মা হলেন ছেলে হারা, স্ত্রী হলেন স্বামী হারা আর সন্তান হলেন পিতা হারা। আমি হারালাম প্রিয় বন্ধুকে।

এখন আমার চাওয়া এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামী ছাড়াও যারা যারা ঘটনার ইন্ধনদাতা আছেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সাথে মামলার আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হউক।

এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, জয়নালকে হারিয়ে মগনামাসহ পেকুয়া উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ শোকাহত। নির্মম এ হত্যাকান্ড নিয়েও চক্রান্ত শুরু করেছে একটি পক্ষ। অথচ প্রকাশ্যে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আয়েশা হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটন ও আসামীদের যেমন প্রশাসন গ্রেফতার করেছে তেমনি জয়নাল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হউক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •