সিবিএন ডেস্ক:
সিগারেট ডাকাতি করাই তাদের পেশা। তবে তা কয়েক হাজার কিংবা লাখ টাকার সিগারেট নয়, অন্তত ২০ লাখ টাকার সিগারেট না হলে তাদের পোষায় না। তাই ডাকাতির টার্গেটই থাকে বিশ লাখ টাকার ওপরে। এক জেলায় ডাকাতি করে অন্য জেলায় পাড়ি জমান বিশ-পঁচিশ জনের এই ডাকাত চক্র। এর ধারাবাহিকতায় গত পাঁচ মাসে ৬ ডাকাতির ঘটনায় কোটি টাকার উপরে সিগারেট লুট করেছে তারা। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগরের আবুল খায়ের গ্রুপের ডিলার খাজা ট্রেডার্সের গোডাউনে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ওই চক্রের মূলহোতা মো. নুর নবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ডাকাতি করা এসব সিগারেট স্বল্পমূল্যে কিনে নেওয়া কুমিল্লা জেলার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে শাহজাহান (৬০) ও তার ছেলে মো. এনায়েত উল্লাহ শান্ত (২৬)।
সোমবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ডবলমুরিং থানা পুলিশ সাংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত ২৭ মে নগরের ডবলমুরিং মডেল থানার পোস্তারপাড় এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের ডিলার খাজা ট্রেডার্সের গোডাউনে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত হয়। ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল ৩ টনের একটি ট্রাকে করে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দারোয়ানসহ ৩ জনকে মারধর করে ডাকাতি করে। ওই ডাকাতির ঘটনার লুন্ঠিত ৯২ কার্টন সিগারেট এবং দুই কার্টন বিক্রির ৬৮ হাজার টাকা দুই ক্রেতা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চক্রের মূলহোতাসহ ওই দুই ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার নুরনবীর চক্রটি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও কামাল বাজার এলাকার রফিক স্টোরে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৭৩ কার্টন, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি আফজাল হোসেনের ২২ লাখ টাকা মূল্যের ৬৩ কার্টন ও নগদ প্রায় দেড় লাখ টাকা, চাঁদপুর কচুয়ার সাইফুল স্টোর ২২ কার্টন ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ, ডবলমুরিংয়ের খাজা ট্রেডার্সের ৩২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৯৪ কার্টন, টেকনাফে ২২ লাখ টাকার সিগারেট লুট করে।

এছাড়াও পতেঙ্গা থানা এলাকার আকিজ বিড়ি গোডাউন, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, সাভার, ঢাকা, রাউজান, মুন্সীগঞ্জ জেলাসহ মোট ৭ বছরে ১০ জেলায় ৩০টি ঘটনায় ১০ কোটি টাকার সিগারেট লুট করেছে। শুধু এই বছরেই ৬ ঘটনায় কোটি টাকার উপরে সিগারেট লুট করেছে এই ডাকাত বাহিনী।

এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘চক্রটি খুবই ভয়ংকর। তাদের ডাকাতিতে বাধা দিলেই গুলি ছোঁড়ে কিংবা ছুরিকাঘাত করে এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে হত্যাও করে তারা! এ পর্যন্ত তাদের হাতে খুন হয়েছে ২ জন। সম্প্রতি পতেঙ্গায় গুদামের মালামাল লুট করার সময় বাধা দেওয়ায় একজনকে হত্যা করেছে। এছাড়া কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হলে গুলিও করে চক্রটি।’ বর্তমানে ডবলমুরিং মডেল থানার এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি মহসীন। -সিভয়েস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •