মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও:
ঈদগাঁওতে তালাকপ্রাপ্ত স্বামী কর্তৃক গৃহবধূর নাক ও ঠোট কেটে ফেলা এবং উপুর্যপুরী কোপানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, ঈদগাঁও থানাধীন ঈদগাঁও ইউপির আউলিয়াবাদ ঢালার দোয়ার এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে রুনা আক্তার (২৮) কে সম্প্রতি তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী মোর্শেদ মিয়া (৩৫) মুখ লক্ষ্য করে উপুর্যপুরি কোপায়। এতে তার নাক ও ঠোটের অংশবিশেষ বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। গৃহবধূর বসতঘরে এ হামলার সময় অজ্ঞাতনামা দু-তিনজন দুর্বৃত্তও ছিল। ঘটনার সময় মোর্শেদ মিয়া রুনার শ্লীলতাহানি ও তার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এ গৃহবধূর বর্তমান স্বামীর সহকারি ইসমাইল ও আহত হয়। স্থানীয় লোকজন রুনাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রেফার করেন। তাকে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগির পিতা শফিকুল ইসলাম (৬৫) বাদী হয়ে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০৮ । মামলার বাদী একই এলাকার মৃত হাজী মোজাহের আহমদের পুত্র। এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি মোর্শেদ মিয়া ঈদগাঁও থানাধীন দক্ষিণ নাপিতখালির (হাজী পাড়া) মনছুর আলম প্রকাশ বলি মনছুরের পুত্র। ২৪ মে তারিখে থানায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। এর আগের রাতে ভিকটিমের বসতঘরের রান্নাঘরে ঘটনাটি সংঘটিত হয়। মামলায় হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর আঘাত, শ্লীলতাহানী, চুরি এবং হুমকি দেয়ার ধারা সংযোজন করা হয়। মামলাটি ঈদগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মোঃ কামাল হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন যে, তিন বছর পূর্বে মুর্শেদের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল। পরে সংসারে বনিবনা না হওয়ায় তালাকের মাধ্যমে উভয়ে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আর দুই বছর পূর্বে ফিরোজের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। এদিকে তালাকপ্রাপ্ত স্বামী অস্ত্র মামলায় দীর্ঘদিন জেল খাটার পর জামিনে এসে এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগে পরিবারের। বর্বর ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনার পর প্রধান আসামি মোর্শেদ আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।প্রেরণ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •