নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার সদরের খুরুকুল তেতৈয়া রফিকের ঘোনা এলাকায় সম্প্রতি বনবিভাগ ও এক সিনিয়র সহকারী বিচারকের কৃষি জমি দখল করে ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও অগ্নিংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭মে) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় দুইজন পথচারীকে কুপিয়ে আহত করেছে দখলবাজরা।

তারা হলেন- স্থানীয় আবদু শুক্কুরের ছেলে হারুন ও সলিম উল্লাহর ছেলে শেফাজুল করিম। তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সলিম উল্লাহর অভিযোগ করে বলেন, দখলকৃত জমির ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপ অগ্নিসংযোগ করার এসময় চিৎকার আশেপাশের সবার মতই আমার ছেলে শেফাজুল করিমও ঘটনাস্থলে গেলে দখলদার কয়েকজন মিলে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে আহত করেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন অপর আহত হারুনের বাবা আব্দু শুক্কুর। ভুক্তভোগীরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দখলকরা ভূমির ভাগ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় অনেকের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়েছেন দখলে অভিযুক্ত কারাগারে থাকা ইউপি সদস্য শেখ কামাল ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দীন ওরফে পোস্টার কামাল সিন্ডিকেট। কিন্তু দখলকৃত ভূমিতে শর্তমতে সবাইকে ঘর করতে দেওয়া হয়নি। এ কারনে বঞ্চিতরা এক হয়ে একযোগে ঝুপড়ি ঘরে আগুণ ধরে দেন।

এর আগে গত রমাজান মাসে নিজেরাই কয়েকটি ঝপুড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ দিয়ে জমির প্রকৃত মালিক বিচারক পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় দখলদার চক্রটি।

স্থানীয়রা জানান, দখলদরা অভিযুক্ত প্রধান তিন আসামী জেলে যাওয়ার পর দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মোবারক হোসেন, মালেক প্রকাশ পেট্টো মালেক, আক্তারুজ্জমান প্রকাশ পুতিয়া ও আজিজুল হক। এদের মধ্যে শাহাব উদ্দীন দখলে অভিযুক্ত কামালের ভগ্নিপতি। বাকিরা জেঠাতো ভাই ও ফুফাতো ভাই বলে জানা গেছে। তারা এলাকায় আতংক সৃষ্টি করার জন্য এক একসময় এক ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অগ্নিসংযোগ ও গুলি বর্ষণের বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল ওসি তদন্ত বিপুল চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কক্সবাজারের খুরুশখুল তেতৈয়া এলাকার একটি চিহ্নিত ভূমিদস্যু চক্র বনবিভাগ ও এক বিচারক পরিবারের কৃষিজমি দখল করেন। দখলদারিত্ব বজায় রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। ব্যানারে লেখা হয় ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার’।

অথচ এ বিষয়ে প্রশাসনের যেমন কোন অনুমতি নেই, তেমনি আওয়ামী লীগের নেতারাও জানেন না মুলত জমি জবরদখল করাই তাদের আসল উদ্যেশ্য। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে হত্যা, চাদাবাজী সহ বহু মামলাও রয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান তিন আসামী ইউপি সদস্য শেখ কামাল, আওয়ামীলীগ নেতা কামাল উদ্দীন ওরফে পোস্টার কামাল ও আবু বক্কর সিদ্দিক বর্তমানে কারাগারে আছেন।

দখলকান্ডে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করায় তাদের বিরুদ্ধে যৌথ সংবাদ সম্মলেনও করেছেন খুরুশকুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। দখলবাজিতে দলের নাম ব্যবহার করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •