সিবিএন ডেস্ক:
নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় দেশেই রাশিয়ার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ উৎপাদনে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে নগদ টাকাতেও কেনা হবে ভ্যাকসিন।

এই বিষয়ে প্রথমবারের মত রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে বসছেন শুক্রবার (২৭ মে) সকালে। বৈঠকটি হবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউ। প্রতিনিধি দলে আরও থাকবেন পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য সচিব এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

অন্যদিকে, রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নেবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, রাশিয়ার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ বাংলাদেশে উৎপাদন বিষয়ে দুই দেশই প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। উৎপাদনে যাওয়ার আগে বিনিয়োগ, পরিবহন, প্রতিক্রিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে গত প্রায় সোয়া একমাসেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে একাধিক পর্যায়ে একাধিক চুক্তি করার বিষয় রয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ‘স্পুটনিক ভি’ বাংলাদেশে উৎপাদন বিষয়ে প্রতি স্তরে চুক্তির ধারা ও দুই দেশের স্বার্থ ঠিক রাখার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তারা এতদিন কাজ করে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করেছেন। শুক্রবার সেটি নিয়েই প্রথমবারের মতো দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে যাচ্ছে। এই বৈঠক থেকেই চূড়ান্ত দরকষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশে রাশিয়ার ভ্যাকসিন উৎপাদন সংক্রান্ত চুক্তি সই হবে।

এর আগে, রাশিয়ার উদ্ভাবিত ‘স্পুটনিক ভি’ ভ্যাকসিন দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন নগদ টাকায় কিনব, কিছু এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করব। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে— ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।’

মন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলাপ ও সমাঝোতা করছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •