ইমাম খাইর, সিবিএন:
সাইক্লোন ইয়াস নিয়ে ২৬ মে ভার্চুয়ালি ওয়েবিনার করেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। সেখানে ‘কোস্ট ফাউন্ডেশন’ এর নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “বিভিন্ন নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া এলার্টগুলো আমরা কাজে লাগাবো। আমরা স্থানীয় জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দূর্যোগ মোকাবেলার চেষ্টা করবো। সামনে ডায়রিয়া প্রকোপ আকার ধারণ করতে পারে সেটার বিষয়ে সচেতন হবো।
আমরা শুধু মানুষ মারা গেলে গুরুত্ব দেই, কিন্তু ফসল ও মাছের ক্ষতি বিবেচনা করি না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব কিছুকে গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরী।”
দূর্যোগ সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ আব্দুল লতিফ খান বলেন, “এপ্রিল মাসের পর আমদের সাইক্লোনের মৌসুম। জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারিতেই কেন আমরা ঠিক করে রাখলাম না যে, আমাদের কোন কোন বেড়ি বাঁধ দুর্বল। সেগুলো শক্তিশালী করতে কেন কাজ করলাম না। শেষ সময়ে এসে কাজ করলে তো হবে না।”
‘দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা’ এর নির্বাহী পরিচালক বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম বলেন, “আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপর অতি নির্ভরশীলতা আমাদের ক্ষতি করেছে।আমরা জানি বৌদ্ধ পূর্ণিমা মানে বড় পূর্ণিমা, অনেকে অজগরী পূর্ণিমাও বলে থাকে, তার ৩ দিন আগ থেকেই পানি বাড়তে থাকবে। কাল সকাল ১১ টা থেকেই বাঁধ ভাঙ্গা শুরু হইছে এবং ক্ষয়ক্ষতি শুরু হইছে আমাদের হাতিয়া থেকে শুরু করে খুলনা পর্যন্ত। জীবন ও জীবিকার উপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা মাইকিং করে তাদের সচেতন করতে পারি। গত ৪০ বছরে প্রচুর জীবন জীবিকার ক্ষতি দেখেছি। আধুনিক সময়ে এসে এটা মানা যায় না। ৮০% মানুষ বলছে ভারতের দিকে সাইক্লোন চলে গেছে। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এই তথ্য কেন নাই যে, পানি ঢুকে আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষের কত ক্ষতি হতে পারে।”
‘দূর্যোগ ফোরাম’ এর সাধারণ সম্পাদক নঈম গওহর ওয়ারা বলেন, “ইডুকেশন ওয়াচের মতো ইমব্যাংকমেন্ট ওয়াচ করা করা যেতে পারে, যা বছরে ৪টি রিপোর্ট দিবে যে, কোথায় বাঁধ দুর্বল, কোথায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এটা শক্তিশালী কমিটি হতে পারে। এই বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলা দরকার যে দূর্যোগকে স্থানীয় ভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে। তথ্য আমাদের হাতে আছে। আমরা জানতাম জোয়ারের পানি বাড়বে এবং বেশ ক্ষয়ক্ষতি হবে। চরফ্যাসনের বেড়ি বাঁধ সকালে ভেঙ্গে গেছে। মহাবিপদ সংকেত না হলে কিছু যে নড়ে না সেই জায়গা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •