মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া-কুতুবদিয়া:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাব ও পূর্নিমার জোয়ারে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইল ও উত্তর ধুরং ইউয়িনের বেড়িবাঁধের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রচন্ড ঝঢ়-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়াায় ভাঙ্গন বেড়িবাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে সাগরের লোনা পানি কুতুবদিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এ ছাড়া জোয়ারের পানির চাপে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের বায়ু বিদ্যুৎ এলাকা, তাবালেরচরসহ আরও পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু পয়েন্ট দিয়ে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর ধুরং ইউপির আকবরবলী পাড়ার বাসিন্দা সাহেদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে পূর্নিমার জোয়ারের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি হওয়ায় পানি ঢুকে বসতভিটা ও পুকুর তলিয়ে যায়। এতে দ্বীপের অসংখ্য পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তারা।

উত্তর ধুরং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম শাহারিয়ার চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের তীব্রতা বেড়েছে। তার উপর পূর্নিমার কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে সাগরের পানির উচ্চতা কয়েক ফুট বেড়েছে। এতে তার ইউনিয়নের পশ্চিম চর ধুরং, পূর্ব চর ধুরং, নয়াকাটা মিয়াজির পাড়া ও কুড়ার পাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটি এম নুরুল বশর চৌধুরী জানান, কুতুবদিয়া দ্বীপের আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ড়ের পশ্চিম আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কাজির পাড়া, কাহার পাড়া, নাশিয়ার পাড়া, তেলি পাড়া, পন্ডিত পাড়া, বাছিয়ার পাড়া, হায়দার বাপের পাড়া, ও টেক পাড়া গ্রামের কয়েক’শ ঘর-বাড়ি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মানুষের সহায়-সম্পদ সাগরের জোয়ারের লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, এই দুই ওয়ার্ড়ের কয়েক হাজার মানুষ আলী আকবর ডেইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কুতুবদিয়া আউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার ভবনে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। এই ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্থ দ্বীপের মানুষের জন্য ত্রান সহায়তা বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: নুরের জামান চৌধুরী জানান, দীপের আলী আকবর ডেইল,লেমশীখালীর কিছু অংশ, উত্তর ধুরংয়ের কয়েকটি গ্রাম, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কয়েকটি অংশে ঘূর্নিঝড় ইয়াশের প্রভাবে সাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মানুষের ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব এলাকার ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় সাত হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তিনি সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •