অনলাইন ডেস্ক: অতীতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার আটটি সিরিজে একবারও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। অবশেষে সেই বাধা টপকে গেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের সিরিজে হারাতে পেরেছে টাইগাররা।

ঘরের মাঠে তিন ম্যাচ ওয়ানডের প্রথমটিতে ৩৩ রানের জয়ে সিরিজ শুরু করে তামিম ইকবালের দল। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০৩ রানের জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয়ের স্বাদ নিয়েছে টাইগাররা। সঙ্গে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলে আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলেও উঠে গেছে শীর্ষে।

সিরিজ জয়ের মিশনে দুপুরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। লঙ্কানদের ২৪৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে আঁটসাঁট বোলিং করে শুরু থেকেই বেঁধে ফেলে টাইগার বোলাররা।

ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানদের ওপেনিং জুটি ভাঙে ২৪ রানের মাথায় কুশল পেরেরার ১৪ রানে বিদায়ে। অভিষিক্ত শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ দেন তামিম ইকবালের হাতে।

এরপর ওপেনার ধানুষ্কা গুনাথিলাকাকে ২৪ রানে সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইন-আপ।

গত ম্যাচে ৪ উইকেট নেয়া মেহেদী মিরাজ আর মোস্তাফিজের বোলিং তোপে ঘুরে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা। দলীয় ১২৬ রানেই পড়ে ৯ উইকেট। তবে ৩৮ ওভার শেষ হতে না হতেই আসে বৃষ্টি।

বৃষ্টি আইনে লঙ্কানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ (১০ ওভার কেটে) ওভারে ২ রান কমে ২৪৫ রান। এর মানে ২ ওভারে ১১৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় লঙ্কানদের সামনে।

এমন অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লঙ্কানদের ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে ১৪১ রান তুলে। বাংলাদেশ জয় তুলে নেয় ১০৩ রানে।

বাংলাদেশের পক্ষে ৩ টি করে উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, মোস্তাফিজ। ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আর ১টি উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। উইকেট না পেলেও তাসকিন ৮ ওভার বোলিং করে দেন মাত্র ২৭ রান।

এর আগে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের বদলে জায়গা হয় মোসাদ্দেক হোসেনের, তাসকিন আহমেদের বদলে অভিষেক হয় পেসার শরিফুলের। তবে ব্যাটিংয়ের সময় রান নিতে গিয়ে মাথায় বল লেগে আঘাত পেলে কনকাশন সাব হিসেবে খেলেন তাসকিন।

ব্যাট করতে নেমে ওপেনার তামিম ইকবালের ঝোড়ো শুরুর আভাস দিলেও মাত্র ১৩ (৬) রান করে ফেরেন সাজঘরে। সাকিব আল হাসান সাজঘরে ফেরেন রানের খাতা খোলার আগেই।

তবে গত ম্যাচে শূন্য রানে ফেরা লিটন দাস আজ ২৫ রান করেন। টপ অর্ডারের বিদায়ের পর মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ’র ৮৭ রানের জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহ’র ৪১ (৫৮) রানের বিদায়ে। এরপর আফিফ হোসেন, মেহেদী মিরাজ ও সাইফউদ্দিনের সঙ্গে জুটি গড়ে তুলে নেন ৪১তম অর্ধশতক। এরপর ছুটেন সেঞ্চুরির পথে। তবে বৃষ্টি বাধায় থেমে যেতে হয়েছে দুইবার

প্রথমে ৪১.১ ওভারের সময় তার ৮৪ রানের মাথায় বৃষ্টিতে প্রায় কুড়ি মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে ৪৩.৩ ওভারের সময় মুশফিকের ৯৬ রানের মাথায় আবারও বাগড়া দেয় বৃষ্টি।

এরপর প্রায় চল্লিশ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর ব্যাট করতে নেমে ১১৪ বলের মাথায় ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে দুই রান নিয়ে মুশফিক পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকের ইনিংস।

যদিও থাকতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। তার ১২৫ (১২৭) রানের ইনিংসে ৪৮.১ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন দুষমন্থ চামিরা ও লাকশান সান্দাকান। এছাড়া ২টি নেন ইশুরু উদানা ও ১টি উইকেট নেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ মে শের ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ১টা থেকে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •