ইমাম খাইর, সিবিএন:
বাংলাদেশ স্বাধীনেরও অনেক বছর আগে থেকে যে জমিতে বসতি; আমাদের নামে খতিয়ান আছে, সেই জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি চক্র। শুনেছি, আমাদের খতিয়ানভুক্ত জমিতে নাকি সড়ক হবে! ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে কিভাবে সম্ভব? কেন, কোন উদ্দেশ্যে এই কাজ? প্রতিকার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই।

মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে দুঃখ ও আকুতিভরা কণ্ঠে এসব কথা তুলে ধরেন প্রায় শতবর্ষী নারী ভুক্তভোগি জন্নেকার বেগম। তিনি রামুর ফঁতেখারকুলের পূর্বমেরুংলোয়ার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম গোলাম শরীফের স্ত্রী।

কক্সবাজার বীর শ্রেষ্ট রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জন্নেকার বেগম বলেন, আমার স্বামী আওয়ামী লীগের অফিস করতে প্রথম রামুর চৌমুহনীতে জমি দিয়েছেলিন। সেই আক্রোশে ১৯৭১ সালে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মালামালসহ সব পুড়ে ছারখার করে দেয় পাক হানাদার বাহিনী। ২০২১ সালে এসে আমরা পাক হানাদার বাহিনীর মতো অন্য কারো আচরণের মুখোমুখি হচ্ছি নাকি? বঙ্গবন্ধুর কন্যার আমলে এমন তো হওয়ার কথা না।

তিনি বলেন, কোন ধরণের অবগতি বা নোটিশ ছাড়া আমাদের খতিয়ানভুক্ত প্রায় ১৫ শতক জমিতে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

তিনি আরো বলেন, সরকারী কোন প্রকল্প করতে হলে আগে নোটিশ জারি করবে। সংশ্লিষ্টদের সাথে বসবে। নিয়ম মেনেই কাজ কর করবে, সেটাই তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু তা না করে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে আমাদের সহায় সম্পত্তিতে কাজ করছে কোন আইনে? এটি কি মগের মুল্লুক? -প্রশ্ন জন্নেকার বেগমের।
তিনি বলেন, আমি প্রতিকার চাই। জমির মালিকানা আমাদের ঠিক আছে কিনা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এসে দেখে যেতে পারেন। তার নিকট আমি বিচার চাই। আমাদের উপর যেন কোন ধরণের জুলুম না হয়।

নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জন্নেকার বেগম বলেন, আমার স্বামীর নামে বিএস-৬০ নং খতিয়ানে এজমালিতে সম্পূর্ণ চূড়ান্ত লিপি আছে। তার মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে বৈধ ভোগদখলে বসবাস করছি।

তিনি বলেন, বিএস-৬০ এর একটি দাগ হচ্ছে ১৭৯৮, যা নাল শ্রেনীর জমি। দাগের পাশে বা খতিয়ানের মন্তব্য কলামে কিংবা সরেজমিন রাস্তার কোন কথা উল্লেখ নেই। এমনকি বিএস সীট বা গোপাট হিসেবেও লিপি নেই। যা সম্পূর্ণ আমাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতবাড়ি। তথাপিও আমার জমিতে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগী হয়েছে উপজেলা প্রকৌশল (এলজিইডি) অফিস। তাদের অবৈধ আশকারা ও ইন্দন দিচ্ছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। তদারকির নামে আমার কোটি টাকা মূল্যের জমি হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে কিছু প্রভাবশালী ও রাজাকারপুত্ররা।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জন্নেকার বেগম বলেন, সরকারের জমি লাগলে দেব, কিন্তু এভাবে কেন? ব্যক্তি মালিকানার জমি দখল করে, ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উন্নয়ন করতে তো দেশের কোন আইনে বলে না। আমি ন্যায় বিচার চাই।

এ প্রসঙ্গে জানতে রামু উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও পাওয়া যায় নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক শ্রাবস্তী রায় বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এভাবে নেওয়ার সুযোগ নাই। প্রয়োজন হলে অধিগ্রহণ করবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •