সিবিএন ডেস্ক:
সোমবার (২৪ মে) ভোরে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ৮৮ কিলোমিটার। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে এই ঝড়ের প্রভাব পড়তে শুরু করতে পারে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে। দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এসব সতর্ক সংকেত আসলে কী সংকেত দেয়। কত নম্বর সংকেতে কী নিষেধাজ্ঞা বা করণীয় থাকে?

বিভিন্ন সংকেতের মানে এবং ঝড়ের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতি ভিন্ন রকমের অর্থ। ঘূর্ণিঝড়সহ অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে আবহাওয়া অধিদফতর কিংবা স্থানীয় প্রশাসন নানা ধরনের সতর্ক সংকেত মাইকে প্রচার করে। এর মাধ্যমে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে চায়।

ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদফতরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।

সমুদ্র বন্দরের ক্ষেত্রে ১১ সংকেত:
১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত: জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত: গভীর সাগরে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর তখনও নিরাপদ, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত: বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগকবলিত হওয়ার আশঙ্কায় এ সংকেত দেওয়া হয়।

৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর ঘূর্ণিঝড়-কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কিলোমিটার।

৫ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট, মাঝারি বা তীব্রতর সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে।

৬ নম্বর বিপদ সংকেত: সব ৫ নম্বরের মতোই। তবে ঝড়টি ডান দিকে দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।

৭ নম্বর বিপদ সংকেত: বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। এ ক্ষেত্রেও ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার।

৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাঁ দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নম্বরের ক্ষেত্রে ৮ নম্বরের মতোই, তবে প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত: বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তার বেশি হতে পারে।

১১ নম্বর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত: সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

নৌ বন্দরের জন্য ৪ সতর্কতা:
১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেতের ক্ষেত্রে বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে পড়তে পারে।

২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেতে বন্দর এলাকায় নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড় আসতে পারে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।

৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত তখন দেওয়া হয় যখন বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। এ ক্ষেত্রে সব নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেতে বোঝানে হয়, বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত। ঝড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।

তবে ইয়াস ঝড়টি তার আগের অবস্থান থেকে সামান্য সরে গিয়েছে। এতে এখন এটি বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। যদি আবারও ঘূর্ণিঝড় তার দিক পরিবর্তন করে তাহলে এটি বাংলাদেশের উপকূলের দিকেও আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটও, বরগুনা জেলাকে আঘাত করতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •