সিবিএন ডেস্ক:
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের বক্তব্যকে ‘তাৎপর্যময়’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দুই রাষ্ট্রই একমাত্র সমাধান। সংঘাতের মূল কেন্দ্র জেরুজালেম নগরে আন্ত-সাম্প্রদায়িক লড়াই বন্ধ করার প্রতি জো-বাইডেনের উদাত্ত আহ্বান সংকট সমাধানে ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মার্কিন গণতন্ত্র প্রিয় নাগরিকদের দৃঢ় সমর্থনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুস্পষ্ট বর্হিপ্রকাশ।’

সোমবার (২৪ মে) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। এদিন ফিলিস্তিন ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিরসনে এই ধরনের সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন ও তার দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে বিএনপি।’

তিনি পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল’ শব্দ বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতাকে সরকারের নীতিহীন অবস্থান বলে দাবি করেন।

ফখরুল বলেন, ‘ইসরায়েলি বিমানের মুহুর্মুহ হামলা ও ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপে যখন ফিলিস্তিনের গাজা নগরী মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা হতাশ করেছে গোটা বিশ্ব বিবেককে।’

তিনি বলেন, ‘আবার ২৩ মে ফিলিস্তিনবিরোধী ওই সিদ্ধান্তে ইজরায়েল সরকারের অভিনন্দন ও টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে তা অস্বীকার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সরকারের পজিশন ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীরবতা গোটা বিষয়ে সরকারের নীতিহীন অবস্থান বেরিয়ে এসেছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং অসলো চুক্তির আলোকে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে ‘ইজরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা’র ঘোষণা বাস্তবায়নের পথ সুগম করাই হচ্ছে প্রধান চ্যালেঞ্জ।”

চলমান হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগসহ দুই রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন জাতিসংঘের নেতৃত্বে অতিসত্ত্বর কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

সরকারের তরফ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে প্রথমেই যে উদ্যোগটা গ্রহণ করা উচিত ছিল, সেটা হচ্ছে সরকার প্রধানের উদ্যোগ। এখন আপনারা বলেন যে, সরকার প্রধান যিনি, তিনি নাকি বিশ্বনেতা। তিনি তো উদ্যোগ নিতে পারতেন সব মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে যে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের পক্ষ দাঁড়াতে। তিনি (সরকার প্রধান) তো সরকারের পক্ষে অনেক বড় রকমের সহযোগিতা পাঠাতে পারতেন, সাহায্য পাঠাতে পারতেন ফিলিস্তিনিদের কাছে। ঘটনা হচ্ছে সি হ্যাজ বিন ডান অ্যাট ইয়েট।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •