সিবিএন ডেস্ক: আফ্রিকার দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) নাইরাগঙ্গো আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের ফলে ছড়িয়ে পড়া আগুনে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয়ে যাওয়া লোকজন ধ্বংসস্তূপে ফিরতে শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গোমার উপশহরীয় বুহেনে জেলায় গিয়ে আগুন স্তিমিত হয়ে এসেছে। শত শত বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মধ্যে বহুতল ভবনও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্বাসনে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোমা থেকে ছয় মাইল অর্থাৎ ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাইরাগঙ্গো পর্বতে আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

২০ লাখ বাসিন্দার শহরটির রাতের আকাশ নাইরাগঙ্গোর আগুনে লাল রং ধারণ করে। জ্বলন্ত লাভার বিস্ফোরণে দূর-দূরান্তে গিয়ে পড়ছে আগুনের ফুলকি। উত্তপ্ত লাভার ঢলের আতঙ্কে প্রাণ বাঁচাতে শহর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত নিরাপদে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়োর ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিআর কঙ্গোতে আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের পর আগুনের লাভা গোমা শহরে অনেক জায়গা পুড়িয়ে স্তিমিত হলে লোকজন ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসে। ছবি : রয়টার্স

জেলখানা থেকে পালাতে গিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। ডিআর কঙ্গো সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া রোববার এ তথ্য জানান।

ইউনিসেফ বলছে, ১৭০টি শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া দেড়শ শিশুকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে।

আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকলে দলে দলে হেঁটেই শহর ছাড়েন মানুষজন। উদগীরণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সরকারি ঘোষণা এলেও এর আগেই পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা সীমান্তের উদ্দেশে ছুটতে শুরু করেছিলেন হাজারও মানুষ। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের অনেকে ধ্বংস্তস্তূপে ফিরে গেছেন।

এর আগে ২০০২ সালে গোমা শহরের নিকটবর্তী এই আগ্নেয়গিরিটির বিস্ফোরণ ঘটে। সেবার আড়াইশ জনের মৃত্যু হয় এবং এক লাখ ২০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •