বার্তা পরিবেশক:

কক্সবাজারের চকরিয়ার শীর্ষ ডাকাত ও বহু মামলার আসামী জামালের বিরুদ্ধে এবার অস্ত্রের মহড়ায় জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগিরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তারা বিষয়টি আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অবগত করেছে। কিন্তু ভূক্তভোগিরা এব্যাপারে কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানান।

সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী আদর্শ মৎস্য চাষ উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের কিছু জায়গা দখলে নিতে জামাল সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারি ডাকাতদের ব্যবহার করছে। প্রতিনিয়ত জামালের নেতৃত্বে ওই সমিতির জায়গাতে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে ডাকাতদল। শুধু তাই নয়, সমিতির সদস্যদের মৎস্য চাষের ঘেরায় লুটপাটও চালিয়ে যাচ্ছে জামাল গং। এ নিয়ে ভূক্তভোগিরা আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বলে সূত্রটি দাবী করেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে জামাল এখনও আইনের আওতায় আসেনি। জামালের এ অপকর্মে স্থানীয়  ২ জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি সহযোগিতা করে আসছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সূত্র আরও জানিয়েছে, হাইকোর্টে তথ্য গোপন করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জামিনের চেষ্টা করেছিলো জামাল গং। পরে বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতের নজরে আসলে তাদেরকে হাইকোর্ট থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। যার মামলা নং ১২২/২০২০।

থানা ও আদালত সুত্রে জানা যায়, জামাল গংয়ের বিরুদ্ধে বসতবাড়ী ভাংচুরের অভিযোগে দায়ের হয় মামলা। যার নং জিআর ৬৬/২১ ও জিআর ৫৬/২০২১, হত্যার অভিযোগে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার নং ৩১২/২০০৪। চকরিয়া থানার মামলা নং ২২ তারিখ ১৮/০২/২০২০, চকরিয়া থানার মামলা নং ৪ তারিখ ০৪/০২/২০২০, চকরিয়া থানার মামলা নং ২৪ তারিখ ২১/০২/২০১৪, চকরিয়া থানার মামলা নং ২০ তারিখ ২৪/০২/২০০০, চকরিয়া থানার মামলা নং ৩২ তারিখ ২৫/০৯/২০০০।

উক্ত মামলাসমূহ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলা ছাড়াও জামাল গংয়ের বিরুদ্ধে থানা-আদালতে আরও ডজনখানিক মামলা ও অগণিত অভিযোগ রয়েছে।

তাই ভুক্তভোগিরা জরুরী ভিত্তিতে  জামালসহ তার সহযোগিদের আইনের আওতায় এনে তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রসমূহ উদ্ধার পূর্বক দৃষ্টার্ন্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য বিনয়ের সাথে দাবী জানিয়েছে।

এ নিয়ে ফাঁসিয়াখালী আদর্শ মৎস্য চাষ উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি রশিদ আহমদ চৌধুরী জানান, সমিতির প্রজা হিসেবে জামালকে আশ্রয় নেয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে ৮০ শতক জায়গা দেয় হয়। সেই জায়গায় জামাল ঘরবাড়ি নির্মাণ করে। পরে সে সমিতির সাথে বেঈমানি করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অস্ত্রের মহড়ায় সমিতির অবশিষ্ট জায়গাও দখল করতে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত সমিতির সদস্যদের মৎস্য চাষের ঘেরায় গুলিবর্ষণ করে যাচ্ছে। এতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের হানায় লুটপাট হচ্ছে মাছসহ অন্য মালামাল। এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আইন আদালতে মামলাও রয়েছে। সমাজপতি রশিদ আহমদ চৌধুরী ডাকাত জামালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •