সিবিএন ডেস্ক:
কারাগার থেকে মুক্তির পর প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালে রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোজিনার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। রোজিনার হার্ট ও ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু শারীরিক জটিলতা আগে থেকেই ছিল। মূলত সেগুলো পরীক্ষা করার জন্য তাঁকে এখানে আনা হয়েছে।’

রোজিনা ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে কিনা- এমন প্রশ্নে মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘তাঁকে ভর্তি করা হবে কিনা তা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসক সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে বের হওয়ার পর রোজিনাকে সোজাসুজি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহ আদালত রোজিনা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সেই জামিনাদেশ কেরাণীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে কাশিমপুরে কারাগারে পৌঁছে। আদেশ পাওয়ার পর পরই মুক্তি মিলে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন রোজিনা। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পান।

গত ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সচিবালয়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে। এ সময় তাঁকে হেনস্তা করা হয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনদের দাবি, শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার কথা বলে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পৌনে ৯টার দিকে তাঁকে থানায় আনা হয়। গভীর রাতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয় নথি চুরির মাধ্যমে সংগ্রহ এবং ওই নথি দ্বারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •