বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে ৯টি বসতঘর। এই নয়টি বসতবাড়িতে ১৭টি পরিবার থাকতেন। এ ঘটনায় বসতঘরে দম আটকে মারা গেছে মোসাম্মৎ সাইমা (৭) নামের এক কন্যা শিশু। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ইউপি সদস্য আবুল কাশেম সহ অন্তত ২৫ জন।

শনিবার (২২ মে) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটের সময় পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়াকাটা এলাকার আহমদ ফকিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত কবির আহমদের পুত্র বাক-প্রতিবন্ধী জয়নাল আবেদীনের বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে জানিয়েছেন ২নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১:১৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটলে এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন। এসময় আগুন নেভানোর জন্য জড়ো হয় ৩ হাজার মানুষ। পরে ১ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে হাজির হন বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুর রহমান সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা প্রায় ১ ঘন্টা পর পৌঁনে ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এ ঘটনায় নগদ টাকা, আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- আহমদ ফকিরের বাড়ির আবুল বশরের পুত্র জামাল উদ্দিন, শফির আহমদ, মৃত রশিদ আহমদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মৃত কবির আহমদের পুত্র জয়নাল আবেদীন, জমির উদ্দিন,গিয়াস উদ্দিন, মুজিবুর রহমান, আবদু সাত্তারের পুত্র বেলাল উদ্দিন, রহিম উদ্দিন, জসীম উদ্দিন, মৃত আমিন শরীফের পুত্র হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমানের পুত্র হামিদুল আজম, শফির আহমদের পুত্র সেলিম উদ্দিন, মৃত আমিন শরীফের পুত্র আবদু সাত্তার, মৃত মো. ইসলামের স্ত্রী সলেমা খাতুন, আবদু সাত্তারের পুত্র মো. বাদশাহ, বদিউল আলম।

অপরদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে আগুনে পুড়ে লাশ হলেন মোসাম্মৎ সাইমা নামের এক মেয়ে। গতকাল শনিবার নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন সাইমা।

জানা যায়, সে পূর্ব পুইছড়ি ৫নম্বর ওয়ার্ডের অটোরিকশা চালক আমান উল্লাহ’র মেয়ে। ২নম্বর ওয়ার্ডের তেলিয়াকাটা এলাকার আবদু সাত্তারের নাতনি।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাঁশখালী থানার অপারেশন অফিসার নাজমুল হক, এসআই প্রদীপ কুমার সিংহ, এসআই আজিম উদ্দিন, পুঁইছড়ি ২নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম, গণ্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আরিফ উল্লাহ্, স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তি হাজ্বী নুরুল কবির। এসময় গণ্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আরিফ উল্লাহ তাৎক্ষণিক বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ ৩৬ হাজার টাকা বিতরণ করেন। তাছাড়া স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তি হাজ্বী নুরুল কবির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ টাকা বিতরণ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুঁইছড়ি ২নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম বলেন, ‘আগুন ধরার পর ঈসমাইল নামের এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম পল্লী বিদ্যুত অফিসে ফোন করেন। তখন পল্লী বিদ্যুত অফিসে দায়িত্বশীল একজন ‘ভুল’ নাম্বার বলে কেটে দেয়। পরে উপায়ন্তর না দেখে নাইন্টি নাইনে ফোন করি। তারা বাঁশখালী থানাকে অবগত করলে সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হক, এসআই প্রদীপ কুমার সিংহ, এসআই আজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। আমি শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আছি।’

তিনি বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসতে আসতে ৯টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। একদম শেষের দিকে গাছে-বাঁশে হালকা পাতলা আগুন ছিল। ওরা এগুলো নিভাইছে। কারেন্ট আরেকটু আগে বন্ধ করলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা এড়ানো যেতো। আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া সাইমা নামের মেয়েটার কঙ্কাল পাওয়া গেছে।’

এ বিষয়ে জানার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা বাঁশখালী থানার এসআই (উপ-পরিদর্শক) প্রদীপ কুমার সিংহ’র ফোন নাম্বারে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •