মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁহ এর মাইজ পাড়ায় শ্বশুর পক্ষের লোকজনের অমানবিক প্রহারে নিহত হওয়া মঞ্জুর আলমের নামাজে জানাজা রোববার ২৩ মে সকাল ১০ টায় ঈদগাহ থানার উত্তর মাইজপাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর মঞ্জুর আলম’কে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের নতুনমহাল ঘোনাপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হবে।

নিহত মঞ্জুর আলমের পারিবারিক সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মঞ্জুর আলমের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত মঞ্জুর আলমের বড় ভাই বাদী হয়ে গত শুক্রবার ২১ মে ঈদগাহ থানায় করা এজাহারটি হত্যা মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে ঈদগাহ থানার ওসি আবদুল হালিম সিবিএন-কে জানিয়েছেন। মামলায় নিহত মঞ্জুর আলমের শ্বশুর নুরুল আজিম, দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তার, তার মা মনোয়ারা বেগম, ভাই কায়েস, বোনসহ ১১ জনকে আসামী করা হয়েছে। শুক্রবার ২১ মে গ্রেপ্তার করা ৮ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি আবদুল হালিম সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

নিহত মঞ্জুর আলম (৪৫) ঈদগাঁও থানার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনমহাল ঘোনা পাড়ার মৃত আব্দুল গনির পুত্র।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ২১মে সকালে ঈদগাঁহ এর উত্তর মাইজ পাড়ায় মঞ্জুর আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তারের বাবা নুরুল আজিম, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই কায়েস, বোনসহ সবাই মিলে দিন দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মঞ্জুর আলমকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন মঞ্জুর আলমেকে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মঞ্জুর আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকগণ তাকে ২২ মে সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে দুপুর ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের আজিজনগর এলাকায় এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মঞ্জুর আলম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

শুক্রবার ২১মে মঞ্জুর আলমকে নির্মম পিটুনির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েপড়লে তা নজরে আসে পুলিশের।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম এর নির্দেশে ঈদগাঁও থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতেই স্ত্রী রুনা আক্তার সহ ৮ জনকে আটক করে।

নিহত মঞ্জুর আলম দীর্ঘদিন সৌদিআরবে প্রবাসে কাটিয়েছেন। সৌদীআরব প্রবাস জীবনে যা আয় করেছেন, তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তারের নামে পাঠাতেন। তাঁর স্ত্রী নিজের নামে ঈদগাহের উত্তর মাইজপাড়ায় কিনেছেন জমি। আর সেখানেই বানিয়েছেন বহুতল ভবনও। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে আসার পর আর বিদেশ যাওয়া হয়নি মঞ্জুর আলমের। এরই মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। স্বামীর সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকেন স্ত্রী রুনা আক্তারের। এক পর্যায়ে শুক্রবার ২১মে সকালে স্ত্রী রুনা আক্তারের বাবা, মা, ভাই বোনসহ সবাই মিলে দিন দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মঞ্জুর আলমকে নির্মমভাবে মারধর করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •