মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও এর মাইজ পাড়ায় নিষ্ঠুরভাবে মার খাওয়া মঞ্জুর আলম (৪৫) মারা গেছে। শনিবার ২২ মে বেলা সাড়ে ১২ টার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মঞ্জুর আলম মৃত্যুবরণ করে। মারা যাওয়া মঞ্জুর আলম ঈদগাঁও থানার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনমহাল গ্রামের মৃত আব্দুল গনির পুত্র।

গত শুক্রবার ২১মে সকালে ঈদগাঁহ এর মাইজ পাড়ায় মঞ্জুর আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তারের বাবা নুরুল আজিম, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই কায়েস, বোনসহ সবাই মিলে দিন দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মঞ্জুর আলমকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন মঞ্জুর আলমেকে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে মঞ্জুর আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকগণ তাকে ২২ মে সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। চট্টগ্রাম নেওয়ার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের আজিজনগর এলাকায় এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মঞ্জুর আলম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

ওই নির্মম পিটুনির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা নজরে আসে পুলিশের।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান পিপিএম এর নির্দেশে ঈদগাঁও থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতেই স্ত্রী রুনা আক্তার সহ ৮ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় মঞ্জুর আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তার, তার বাবা নুরুল আজিম, মা মনোয়ারা বেগম, ভাই কায়েস, বোনসহ ৯ জনকে আসামী করে ঈদগাহ থানায় মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে।

নিহত মঞ্জুর আলম দীর্ঘদিন সৌদিআরবে প্রবাসে কাটিয়েছেন। সৌদীআরব প্রবাস জীবনে যা আয় করেছেন তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আক্তারের নামে পাঠাতেন। তাঁর স্ত্রী নিজের নামে ঈদগাহের উত্তর মাইজপাড়ায় কিনেছেন জমি। আর সেখানেই বানিয়েছেন বহুতল ভবনও। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে আসার পর আর বিদেশ যাওয়া হয়নি মঞ্জুর আলমের। এরই মধ্যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। স্বামীর সাথে দূরত্ব বাড়াতে থাকেন স্ত্রী রুনা আক্তারের। এক পর্যায়ে শুক্রবার ২১মে সকালে স্ত্রী রুনা আক্তারের বাবা, মা, ভাই বোনসহ সবাই মিলে দিন দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে মঞ্জুর আলমকে নির্মমভাবে মারধর করে।

ঈদগাঁও থানার চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কুতুবউদ্দিন রাজু সিবিএন-কে জানিয়েছেন-শ্বশুরপক্ষের অমানবিক প্রহারে নিহত হওয়া মঞ্জুর আলমের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

মঞ্জুর আলম নিহত হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •