মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম
পেটের ভেতর করে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে সাতকানিয়ায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ল দুই মাদক কারবারী। আটকের পর পায়ুপথ দিয়ে পেট থেকে বের করা হলো স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো ৬২টি পুটলি। আর এসব পুটলিতে পাওয়া গেল ৩ হাজার ১শ’ পিস ইয়াবা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সাতকানিয়া থানা পুলিশ ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে পেটে করে সাতকানিয়ার গোয়াজর পাড়ায় একটি বাড়িতে ইয়াবা আনার বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে পুলিশ।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন এবং এএসআই দীপক চন্দ্র ধরের নেতৃত্বে পুলিশ গোয়াজর পাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।
এরই মধ্যে পেট ভর্তি ইয়াবা নিয়ে সাতকানিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব গোয়াজর পাড়ার ডলু পুকুর পাড়ে মো. আবু হানিফের (৪০) বসতঘরে হাজির হয় উখিয়ার মো. ছালাম (৪০)। আসার সাথে সাথে শুরু হয় নানা রকম খাবারের আয়োজন। সেখানে পায়ুপথে ইয়াবা বের করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।
ততক্ষণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মো. ছালাম ও মো. আবু হানিফকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. ছালাম কক্সবাজারের উখিয়ার পালং খালীর ৮নং ওয়ার্ডের মুচার খোরা এলাকার মো. সুলতানের ছেলে এবং মো. আবু হানিফ সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঢেমশা পূর্ব গোয়াজর পাড়ার ডলু পুকুর পাড় এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. ছালামের পেটে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করে আসামীরা। তারপর এক্স-রে করে তার পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হই। তখন সবাই আসামীর পেট থেকে ইয়াবা বের করার উপায় খুঁজছিল। পরে তাকে পানি আর কলাসহ নানা রকম খাবার দেয়া শুরু হয়। পেট পুরে খাওয়ানোর পর কখন পায়খানা করবে তার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে পায়খানা করা শুরু হয়। এরপর আসামী ছালামের পেট থেকে পায়ুপথে একে একে বেরিয়ে আসলো ৬২টি পুটলি। আর এসব পুটলিতে পাওয়া গেলো ৩ হাজার ১শ’ পিস ইয়াবা।”
ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মো. ছালাম এবং মো. আবু হানিফের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে শনিবার (২২ মে) আদালতে হাজির করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •