মো. নুরুল করিম আরমান, লামা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের লামা পৌরসভা এলাকার চাম্পাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের বসতঘর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘরের মূল ফটকের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত লাশগুলো হলো- নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৪০), তার মেয়ে রাফি (১৩) ও ১০ মাস বয়সী নূরী। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা মা সহ দুই মেয়েকে হত্যা করতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। শুক্রবার রাত ১০টায় এ রিপোট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় নুর মোহাম্মদের দুই ভাই ও স্বজনদের জিঙ্গাসাবাদের পাশাপাশি আলামত সংগ্রহ করছে পুলিশ।

জানা যায়, চাম্পাতলী গ্রামের মৃত বাচা মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ একজন কুয়েত প্রবাসী। বর্তমানে তিনি কুয়েতে অবস্থান করছেন। তার ৫ মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আফরিন নামের মেয়েটি বৃহস্পতিবার দাদী ছকিনা বেগমের সাথে আলীকদম বোনের শশুর বাড়ীতে যান। এদিকে বড় বিলছড়ি ইউনিয়ন থেকে বুধবার সকালে মাজেদা বেগমের বড় বোন রাহেলা বেগম বেড়াতে আসে এবং বিকেলে চলে যায়। শুক্রবার সারাদিন নুর মোহাম্মদের পরিবারের লোকজন ঘর থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীরা ধারণা করেছিলেন তারা বেড়াতে গেছেন।

কুয়েত প্রবাসী নুর মোহাম্মদের ছোট ভাই আব্দুল খালেক জানায়, সারাদিন কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ও ঘরের মূল ফটকের দরজা বন্ধ থাকায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘরের পিছনের জানালা দিয়ে ঊঁকি দিলে নুর মোহাম্মদের কক্ষের মেঝেতে স্ত্রী মাজেদা বেগম ও খাটের ওপর তার মেয়ে রাফির লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি তারা তাৎক্ষনিকভাবে লামা থানাকে অবহিত করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজওয়ানুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ঘরের মূল ফটকের তালা ভেঙ্গে লাশগুলো উদ্ধার করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল, নির্বাহী অফিসার মো. রেজা রশীদ, পৌরসভা মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা মা ও দুই মেয়েকে কোন কিছরু আঘাতে হত্যা করে এবং ঘরের আলমারী ও ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ভেঙ্গে মালামাল লুটে নেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশের প্রাথমিক সুরতহাল করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তিনটি বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •