মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিনের জন্য সমুদ্র মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের লক্ষ লক্ষ জেলে। সরকারীভাবে নিবন্ধিত শুধুমাত্র ৬৩ হাজার ১৯৩ জন জেলের জন্য প্রণোদনা হিসাবে ৩ হাজার ৬০০ মে: টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতি পরিবারে জন্য প্রতিমাসে ৪০ কেজি হিসাবে এ খাদ্য সহয়তা দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল জানিয়েছেন, নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত চাল প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও-দের কাছে ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ইউএনও’র কার্যালয় হতে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল সরবরাহ করা শুরু হয়েছে।

এদিকে, জেলেরা বলেছেন, তারা সরকারীভাবে এখনো কোন খাদ্য বা ত্রাণ সহায়তা পায়নি। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রকৃত জেলারা সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আসেননি। প্রকৃত জেলেরা সরকারের এ প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠিয়েছেন। ফলে এই লকডাউনে জেলে পল্লীতে হাহাকার চলছে। প্রকৃত জেলেরা অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এই ৬৫ দিন সমুদ্রে ট্রলারের মাধ্যমে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় এ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মোট ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছরের এ সময় সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এই ৬৫ দিন সব ধরনের ট্রলারের মাধ্যমে মাছ ও ক্রিস্টাশিয়ান্স (চিংড়ি, লবস্টার, কাটলফিস ইত্যাদি) আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়।

এদিকে, কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, স্থলেও লকডাউন, সমুদ্রেও লকডাউন। এ অবস্থায় জেলে ও বোট মালিকেরা চরম আর্থিক কষ্টে পড়ে গেছে। তিনি আরো জানান, এরআগে আরো ২২ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ ছিলো।

কক্সবাজার সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার তারাপদ চৌহান বলেছেন, নিবন্ধিত জেলেদের প্রনোদনা হিসাবে সরকারীভাবে জনপ্রতি প্রতিমাসে ৪০ কেজি চাল খাদ্য সহয়তা হিসাবে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কক্সবাজার জেলায় ৬৩ হাজার ১৯৩ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এ সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্পীড বোট দিয়ে সমুদ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন ফিশিং বোটে অবৈধভাবে আহরিত যত টাকার মাছ পাওয়া যাবে, ফিশিং বোট গুলোকে তত টাকা জরিমানা করা হবে। সমুদ্রে মৎস্যভান্ডার বাড়াতে সরকার প্রতি বছরের মতো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান-সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার তারাপদ চৌহান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •