সিবিএন ডেস্কঃ
রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে প্রকাশ্যে শাহীন উদ্দিন (৩৩) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার ৫ নম্বর আসামি মো. মানিক র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকার রূপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক আজ শুক্রবার সকালে এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য জানান।

মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিয়মিত টহলের সময় র‍্যাব-৪ জানতে পারে, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। টহল দলের সদস্যেরা সেখানে পৌঁছানো মাত্রই সন্ত্রাসীরা র‍্যাবকে লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে সেখানে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘পরে আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তির নাম মানিক। পল্লবীতে শাহীন উদ্দিন নামের যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, ওই ঘটনায় তিনি জড়িত। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’
র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে রোববার বিকেলে জমির বিরোধের মীমাংসার কথা বলে শাহীন উদ্দিনকে পল্লবী থানার ডি-ব্লকের একটি গ্যারেজের ভেতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহীনের মা আকলিমা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়।
এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় অভিযান চালিয়ে শাহীন হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এছাড়া এই মামলার অপর দুই আসামি মো. সুমন বেপারী (৩৩) ও মো. রকি তালুকদারকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাব বলছে, ঘটনার চার থেকে পাঁচদিন আগে মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও মামলার প্রধান আসামি আউয়ালের কলাবাগান অফিসে ২ নম্বর আসামি আবু তাহের ও ৩ নম্বর আসামি সুমন এই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন। বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় সুমনকে। সুমনের নেতৃত্বে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন কিলিং মিশনে অংশ নেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক শাহীন উদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানোর কথা বলে ফোন করে ডেকে নেন। শাহীন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে পৌঁছালে সুমন ও টিটুসহ ১৪ থেকে ১৫ জন মিলে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যান। এ সময় শাহীনের সাত বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে শাহীনকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তাঁরা। এরপর তাঁকে ওই বাড়ি থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে ফের কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যান তাঁরা। এ সময় ঘটনাস্থলেই শাহীনের মৃত্যু হয়।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •