সিবিএন ডেস্কঃ
২০ মে থেকে সৌদি আরব যাত্রায় নতুন বিধিনিষেধ মানতে হবে। আর তার প্রস্তুতি নিতে না পেরে ফ্লাইটই বন্ধ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। টেলিফোনে  সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানাচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। তবে কবে নাগাদ আবার চালু হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না দেওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সৌদি আরব গমনেচ্ছুরা।
সৌদি প্রবাসী নোমান আহমেদ বলেন, ‘আমার ফ্লাইট ছিল ২০ মে- ঢাকা থেকে দাম্মাম। বিমান কর্মকর্তারা ফ্লাইট বন্ধ বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আমার ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে। ফ্লাইট আবার কবে দেবে সেটাও বলতে পারেনি। বিরাট অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেলাম।’

এ বিষয়ে জানতে বিমানের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করেও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সালেহ্‌ মোস্তফা কামালকে দুদিন আগে ইমেল করেও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দা- এই তিন গন্তব্যে সপ্তাহে ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করছিল বিমান। আগে মক্কা এবং মদিনাত ফ্লাইট থাকলেও, করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। এয়ারলাইন্সটির ওয়েবসাইটে ফ্লাইট শিডিউল চেক করে দেখা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দায় কোনও ফ্লাইট নেই। ফলে যারা টিকিট কেটেছিলেন তাদের যাত্রা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বেশি বিপদে পড়েছেন নোমানের মতো প্রবাসীরা, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের প্রান্তে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য এয়ারলাইন্সকে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে বলেছিল সৌদির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন। কিন্তু এখনও বিমানের পক্ষ থেকে হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে যাত্রীও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে হোটেলের সঙ্গে চুক্তি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে দ্রুত চালু হবে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরব। নতুন বিধিনিষেধগুলো সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে জানিয়েছে গত ১০ মে।
সেখানে বলা হয়েছে, যারা করোনার ভ্যাকসিন নেননি, তারা সৌদি আরবে প্রবেশ করলে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। হোটেলের খরচ যাত্রীকেই বহন করতে হবে। এ নিয়ম ২০ মে থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।
এ ছাড়া, সৌদি আরবগামী সকলের মেডিক্যাল ইনস্যুরেন্সও বাধ্যতামূলক করা হয়। যাতে করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যয় বীমার আওতায় বহন করা যায়।
আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে যাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর পদ্ধতিতে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে যাত্রীকে বোর্ডিং ইস্যু করা যাবে। সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর যাত্রীকে আরও দুই বার করোনা টেস্ট করতে হবে। প্রথমবার করতে হবে সৌদি আরবে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। ৬ষ্ঠ দিনে আবারও পরীক্ষা করাতে হবে। এই পরীক্ষার খরচও যাত্রীকে বহন করতে হবে।
দুইবারের পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট এলে হোটেলে কোয়ারেন্টিন থেকে ৭ম দিনে বাসায় যাওয়া যাবে।
যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণপত্রও সঙ্গে রাখতে হবে। ফাইজার-বায়োএনটেকের ২ ডোজ, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২ ডোজ, মডার্নার ২ ডোজ এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ১ ডোজ যারা নিয়েছেন তারা হোটেলে কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া, সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউশন নতুন করে নিয়ম করেছে, কেউ যদি করোনাভাইরাস ছড়ায় তাকে ৫ বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। যদি সেই ব্যক্তি প্রবাসী হয়, তবে তাকে শাস্তি দেওয়ার পর সৌদি আরব থেকে বিতাড়িত করা হবে এবং তিনি আর কোনও দিন সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন না।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •