সিবিএন ডেস্ক:
স্পেনের মালিকানাধীন উত্তর আফ্রিকার একটি ছিটমহলে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করার পর সেনা মোতায়েন করেছে মাদ্রিদ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে পার্শ্ববর্তী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছে প্রায় আট হাজার মানুষ। তারা বলছেন এসব অভিবাসীরা হয় সাঁতার কেটে কিংবা কম উচ্চতার স্রোত হেঁটে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদরো সানচেজ শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেশটি জানিয়েছে, অর্ধেক অভিবাসী মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় সেউতা এবং মেলিল্লা সফর করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদরো সানচেজ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে সৈকত থেকে প্রায় সব অভিবাসীকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অভিবাসী প্রবেশ নিয়ে স্পেনের সঙ্গে মরক্কোর কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। যা ঘটেছে তা নিয়ে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরক্কোর রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনার পর আলোচনার জন্য রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশে ডেকে নিয়েছে মরক্কো।

বেশিরভাগ অভিবাসীই জানিয়েছে তারা মরক্কো থেকে এসেছে। সেউতার মূল প্রবেশ পথ তারাজলে সীমান্ত পুলিশকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে মারলাস্কা বলেছেন, সেউতার স্বাভাবিক এক হাজার একশ’ সদস্যের সীমান্ত বাহিনীকে সহায়তা করতে অতিরিক্ত দুইশ’ সেনা এবং দুইশ’ পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ছিটমহলটিতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বাস।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা নাগাদ সমুদ্র পথে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষের সংখ্যা কমে আসে। বেশ কিছু অভিবাসী স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে যায়। আবার অনেককেই ফেরত পাঠায় সেনা সদস্যরা।

ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া আফ্রিকান অভিবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্পেনের সেউতা এবং মেলিল্লা। ১৭শ’ শতাব্দী থেকেই সেউতিা ও মেলিল্লায় স্পেনের শাসন চলছে। তবে দীর্ঘ দিন এগুলোর কর্তৃত্ব দাবি করেছে মরক্কো। স্পেনের মূল ভূখন্ডের বেশ কিছু এলাকার মতো এই ছিটমহলগুলোরও আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •