মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের উন্নয়ন কাজ চলাকালীন জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ লাগবে প্রধান সড়কের বিকল্প সড়ক করার উদ্যোগ নিতে খুব শীঘ্রই কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কক্সবাজার পৌরসভা, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের চতুর্পক্ষীয় সভা আহবান করা হবে।

কক্সবাজার প্রধান সড়কের উত্তর পার্শ্বে মাঝিরঘাট হয়ে পেশকার টু কস্তুরাঘাট পর্যন্ত এবং প্রধান সড়কের দক্ষিণ পার্শ্বে সিটি কলেজ বা বিজিবি ক্যাম্প হয়ে পাহাড়তলী টু শহীদ স্বরণী পর্যন্ত বিকল্প সড়ক করা যায় কিনা-গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ কথা বলেন। তিনি জানান, এজন্য কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে সমন্বয়ক করে এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলবেন এবং তিনি নিজে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কক্সবাজার পৌরসভার মেয়রের সাথে কথা বলবেন। চতুর্পক্ষীয় সভায় প্রধান সড়কের আরো বিকল্প সড়কের জায়গা খোঁজা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে।

সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন-প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে কক্সবাজারে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে দিয়েছেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার শহরের হলিডে মোড় থেকে পূর্বে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রধান সড়কটি উন্নয়ন করছে। তিনি বলেন-নির্মান কাজের প্রসব বেদনা থাকবে। একজন মা যেমন সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে চরম প্রসব বেদনায় ভুগেন। আর সন্তান জন্ম লাভ করলেই সেই প্রসব বেদনা সব ভুলে যায়। ঠিক একইভাবে প্রধান সড়ক উন্নয়ন চলাকালে জনসাধারণ দুর্ভোগ পোহালেও সড়কটি পুরোপুরি নির্মাণ কাজ শেষ হলে জনসাধারণ সেই দুর্ভোগের কথা ভুলে যাবে।

কক্সবাজারের কৃতি সন্তান, সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, আমি বাল্যকালে দেখেছি কক্সবাজার শহরে প্রধান সড়ক নামক একটামাত্র রোডটি ছিল। যেটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়েছিল। শহরে আর কোন বিকল্প সড়ক ছিলনা। পরে শহরের যানজট কমাতে, পুরাতন শহরকে সম্প্রসারণ করতে শহরের কলাতলী থেকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করা হয়। কক্সবাজার শহরে এখন প্রায় ৫ লক্ষ লোকের বসবাস। তার উপর স্বাভাবিক সময়ে বন্ধের দিনে ৪/৫ লক্ষ পর্যটক কক্সবাজার আগমন করে থাকে। কোন কোন জায়গায় আবার অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের বসতিও গড়ে উঠছে। আবার ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বসতভিটা হারিয়ে, জলবায়ু উদ্বাস্তু কুতুবদিয়া, মহেশখালী সহ উপকূলীয় এলাকা থেকে অনেক মানুষ কক্সবাজার শহরে বসতি গড়ে তুলেছেন। ফলে কক্সবাজার শহরে জনসংখ্যার সবসময় একটা বাড়তি চাপ রয়েছে। তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরকে ঘিরে আমার একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে। সে মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে কক্সবাজার শহরকে সাজাতে হবে বলে জানান-সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •