অনলাইন ডেস্ক: নারদা স্টিং অপারেশন কাণ্ডে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের নেতা ও পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাবেক মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)।

সিবিআইয়ের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, নারদা কেলেঙ্কারিতে সোমবারই প্রথম অভিযোগপত্র জমা দেবে সংস্থাটি। তার আগে রাজ্যপালের অনুমতি নিয়ে সকালে এ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের চেতলা এলাকার বাড়িতে সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সিবিআই কর্মকর্তারা গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময় গ্রেপ্তার করা হয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং সাবেক দুই মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্রকেও‌।

ফিরহাদ হাকিমের গ্রেপ্তারের সময় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে রাস্তায় শুয়ে পড়ে তৃণমূল কর্মীরা সিবিআইয়ের গাড়ি আটকে দেয়।

পরে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম নিজেই গাড়ি থেকে নেমে কর্মীদের রাস্তা ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।

ফিরহাদ বলেন, ‘আমাকে বিনা নোটিশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা আদালতে এর মোকাবিলা করব।’

২০১৪ সালে নারদা নিউজের মাথা ম্যাথু স্যামুয়েল স্টিং অপারেশন করেন। ম্যাথুর পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমপেক্স কনসালট্যান্সি নামে একটি কাল্পনিক সংস্থার হয়ে নারদা নিউজের লোকজন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের কাছে পৌঁছান‌।

নারদা নিউজের দাবি, ওই কাল্পনিক সংস্থা রাজ্যে ব্যবসা চালানোর জন্য ৭২ লাখ টাকা ঘুষ দেয় তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের।

মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, সুলতান আহমেদ, সৌগত রায়, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায়, পুলিশ কর্মকর্তা এমএইচ আহমেদের নাম জড়িয়ে যায় নারদা কাণ্ডে। এদের প্রত্যেককে ভিডিওতে টাকা নিতে দেখা যায়।

সোমবার তৃণমূলের বর্তমান ও সাবেক চার মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে গ্রেপ্তারি কাগজে সই করানো হয় তাদের।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করে বলা হয়েছে, নারদা কাণ্ডে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর নাম থাকা সত্ত্বেও তারা গ্রেপ্তার হয়নি। বিজেপিতে যোগ দেয়াতেই তাদের ছাড় দেয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের।

সিবিআইয়ের সূত্র বলছে, দুপুর ২টার মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাংকশাল আদালতে তোলা হবে।

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার নেতাদের আইনজীবীরা সিবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেন, ‘বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে সিবিআই প্রতিহিংসামূলক আচরণ করছে। আমি এর নিন্দা করছি।’

রাজ্যপাল কীভাবে সিবিআইকে অনুমোদন দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আদালতে এর মোকাবিলা হবে।’

বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিধানসভার স্পিকারকে এড়িয়ে কেন সিবিআই রাজ্যপালের অনুমতি নিতে গেল? এটা আইনবিরুদ্ধ।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •