বলরাম দাশ অনুপম :
সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকতো সমুদ্র সৈকত সেখানে বর্তমানে বিরাজ করছে শুনসান নিরবতা। করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় গত দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। ফলে ঈদের ছুটিতেও নেই পর্যটকদের কোলাহল আর পদচারণা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন কেন্দ্র ও পর্যটন এলাকার সব শত শত আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় পর্যটন সেক্টরের সাথে জড়িত অর্ধলক্ষাধিক পরিবারে এবারের ঈদের আনন্দ ¤øান হয়েছে।
জানা যায়, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শারদীয় দূর্গাপুজা ও ইংরেজি নববর্ষে বিশে^র দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে নামে লক্ষ লক্ষ পর্যটকের ঢল। তবে করোনার কারণে গতবছরও কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টরের অবস্থা ছিল এবারের মতোই।

তবে গত বছরের আগস্টে সীমিত পরিসরে পর্যটন শিল্প খুলে দেয়ার পর গত ইংরেজি নববর্ষে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এসময় একদিনেই কক্সবাজারে ১০ লক্ষাধিক পর্যটক সমাগম ঘটে বলে জানান পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার গত ১ এপ্রিল থেকে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করলে কক্সবাজার শহরসহ জেলার পর্যটন কেন্দ্রসমূহে অবস্থিত ৭ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও সহস্রাধিক রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, ট্যুর অপারেটরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর্যটন সেক্টর বন্ধ থাকায় এসব পরিবারে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। দক্ষ ও যোগ্য পর্যটন কর্মীরা পেশা পরিবর্তন করে অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। ফলে পর্যটন শিল্পে দক্ষ ও যোগ্য কর্মীর অভাব দেখা দিবে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে তাদের পরিবারের এবারের ঈদ ¤øান হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান।
ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ ট্যুরিজম সার্ভিসেস এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন- করোনা লকডাউনের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে দৈনিক ১০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। গত দেড় মাস ধরে হোটেল-মোটেল সমূহ বন্ধ থাকায় মালিকপক্ষ ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছে। যে কারণে বেশিরভাগ কর্মচারীকেই ছুটি দেয়া হয়েছে।


তবে ঈদের দিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বেশ কিছু পয়েন্টে স্বল্প সংখ্যক স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভীড় জমাতে দেখা গেছে। তাদের অনেকের মাঝে ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন।
তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, কড়াকড়ি না করে সৈকতে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের সৈকতে নামতে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জানালেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. গোলাম কিবরিয়া।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •