নিজস্ব প্রতিবেদক:

মায়ের সঙ্গে একটি ছবি ফেইসবুকে প্রকাশের পর ধর্ম নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের কবলে পড়েছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ঠিক সেই মুহুর্তে হিন্দু বন্ধুর মরদেহ নিজের কাঁধে করে শ্মশানে নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কক্সবাজারের ছাত্রলীগ নেতা আফসানুর রেজা।

এদিকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যকারীদের উদ্দেশ্যে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, “আমি হিন্দু নাকি মুসলিম, তাতে আপনাদের লাভ বা ক্ষতি কি? সকলেরই সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘মানুষ’। ধর্ম নিয়ে এসকল রুচিহীন প্রশ্ন ও বিব্রতকর আলোচনায় উঠে আসে কক্সবাজার জেলার অন্যতম ছাত্রলীগ নেতা আফসানুর রেজার নাম।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ছবি ও পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় সারাদেশ। তাঁরই প্রেক্ষিতে ভাইরাল হওয়া পোস্ট, ছবিতে কমেন্ট করে আফসানুর রেজা’র উন্নত মানসিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা , মনুষ্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।

এই নিয়ে পাইলট চক্রবর্ত্তী বলেন, একজন ছাত্রলীগ কর্মীর এমন মানবিকতা আমাদের দেশপ্রেমও রাজনৈতিক দল গুলোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে দেয়।

মোহাম্মদ আজিজ নামে একজন কমেন্টে লিখেন, আমি একজন মুসলমান হওয়াতে কখনো শ্মশানে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। আবিরকে চিনি আফছানের খুব কাছের আর আদরের ছোট ভাই হিসেবে। আবিরের মৃত্যুর খবর শুনে মনে হলো আফছান কেমন অবস্থায় আছে। যাই হোক আবির আফছানের ছোট
ভাই বলে আমার মতো অনেক মুসলমান ঘরের ছেলে শ্মশান অব্দি লাশ পোড়ানো পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিলাম। আফছান আবিরকে কেমন ভালোবাসে তা আমি লক্ষ্য করেছি যখন আফছান লাশ কাঁধে নেয় তখন বারবার পিছনে ফিরে তাকিয়ে তাকিয়ে কাঁদতেছিলো। যাই হোক মুসলিম ভাইদের ইফতারের ব্যবস্থা ও করেছিলো অল্প পরিসরে শ্মশানে। কিন্তু Afsanur Reza ইফতার করতে ভুলেই গিয়েছিলো কিছুক্ষণের জন্য। শ্মশানে মুসলিম ভাইদের ইফতারের দৃশ্য বিরল। ভালোবাসার ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে থাকলাম । প্রিয় আফছান কতটুকু ভালো মানুষ না মিশলে বোঝা যাবে না।

এই নিয়ে আফসানুর রেজা বলেন, আবীর আমার খুব আদরের ছেট ভাই। এটুকু আবিরের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দায়বোধ থেকে করা। এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মশালায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়ার দেওয়া বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধুর বাণী
“ যার মনের মধ্যে আছে সাম্প্রদায়িকতা, সে হলো বন্য জীবের সমতূল্য” স্মরণ করিয়ে দেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •