মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

আমাদের মধ্যে হয়ত অনেকে জানেন না ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ পদটি কিভাবে উৎপত্তি হলো। বৃটিশ শাসিত ভারতে ইংরেজেরা তাদের প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা অর্থাৎ রাজস্ব সঠিকভাবে আদায়ের লক্ষ্যে ১৭৭২ সালের ১৪ মে ইংরেজ শাসক ওয়ারেন হেস্টিংস সর্বপ্রথম ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ এর পদটি সৃষ্টি করেন। ব্রিটিশ আমলে সেই প্রথম সৃষ্ট পদটির নাম ছিলো ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ (District collector)। তখন থেকে জেলার প্রশাসনিক প্রধানের নাম ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ হিসাবেই নামকরণ করা হয়।

এজন্য দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে এখনো ঐতিহ্যগতভাবে ‘কালেক্টরেট ভবন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্পৃক্ত বিভিন্ন সার্ভিস এসোসিয়েশনের নাম সহ বিভিন্নক্ষেত্রে এখনো সে কালেক্টরেট নামটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন-জেলা কালেক্টরেট সহকারী সমিতি, ভূমি অফিসে জেলা প্রশাসক পরিদর্শন গেলে বা রাজস্ব বিষয়ক কোন বিষয়ে ফাইলনোট লিখলে সেখানেও পদ হিসাবে ‘জেলা কালেক্টরেট’ শব্দটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।

পরে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে, জেলার আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থার ক্ষমতা অর্পণ করে একই ব্যক্তির জন্য ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ (District magistrate) নামে আরেকটি পদ সৃষ্টি করা হয়। ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ পদটি জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করে পাকিস্তান আমলে ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ এর জন্য তৃতীয় আরেকটি পদ সৃষ্টি করা হয়। এই পদটি মূলত মাঠ প্রশাসন কার্যক্রমকে আটো গতিশীল করতে, জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডসমূহের সমন্বয় সাধন, জেলার অন্যান্য সকল প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সাধন করার জন্যই মূলত সৃষ্টি করা হয়েছে। যার নাম হচ্ছে ‘ডেপুটি কমিশনার’ (Deputy commissioner)।

আমাদের দেশে প্রশাসনিক বিভাগ এর প্রধান কর্মকর্তার পদের নাম হচ্ছ-‘কমিশনার’ অর্থাৎ আমরা এ পদটিকে সচারাচর ‘বিভাগীয় কমিশনার’ বলে থাকি। অথবা ‘কমিশনার’ অমুক বিভাগ হিসাবেও অভিহিত করে থাকি। সেই ‘বিভাগীয় কমিশনার’ থেকেই ‘ডেপুটি কমিশনার’ শব্দের উৎপত্তি অর্থাৎ সংক্ষেপে ‘ডিসি’ (DC)। জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ এর হাতে এখনো অর্পিত রয়েছে। ‘ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট’ গণ পদাধিকার বলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি। Magistrate শব্দটি ল্যাটিন Magistratus শব্দ থেকে এসেছে বলে জানা যায়। যার মানে Administrator বা শাসক। ভারতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট-কে এখনো বাংলায় বলা হয় ‘জেলা শাসক’। ‘শাসক’ শব্দটি শুনতে একটু পরাধীন মনে হওয়ায় সেটিকে আরো কোমল ও সহনীয় করে বাংলাদেশে ‘প্রশাসক’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ‘জেলা প্রশাসক’ বহুল ব্যবহৃত District Magistrate শব্দের পরিবর্তিত বাংলারূপ, যা এখনো ভারতে ‘জেলা শাসক’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

গবেষক ও ঐতিহাসিকদের মতে ‘ডিস্ট্রিক কালেক্টর’ ঐতিহ্যগতভাবে এই উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো একটি পদ এর নাম। এই ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ শুক্রবার ১৪ মে ২৪৯তম বছর অতিক্রম করে ২৫০ বছরে পা রাখছে। সুদীর্ঘ আড়াইশো বছর। কাকতালীয়ভাবে এবছর ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ পদটির ২৪৯ তম জন্মদিন আর মুসলমান ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে একইদিন শুক্রবার ১৪ মে।

ডিসি মো. মামুনুর রশীদ’কে সিবিএএন পরিবারের শুভেচ্ছা :

২৫০ বছরে ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ পদটি পা রাখার এ শুভলগ্নে কক্সবাজারের কর্মপাগল ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. মো. মামুনুর রশীদ’কে কক্সবাজার জেলার প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কক্সবাজার নিউজ ডটকম-সিবিএন’ পরিবার ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সিবিএন পরিবারের পক্ষে সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী এ ঐতিহাসিক দিনে গতিশীল, দূরদর্শী, সৃজনশীল কর্মকর্তা, জেলাবাসীর অভিবাবক ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ড. মো. মামুনুর রশীদের আরো উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন। মেধাবী ও চৌকস গুণাবলী সম্পন্ন কর্মকর্তা ড. মো. মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলাবাসী বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত হয়ে কাঙ্খিত সমৃদ্ধির সোপানে এগিয়ে যাবেন বলে সিবিএন সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •