মোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম:
সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে চলে গাঁজার বিকিকিনি। মাদকের রমরমা ব্যবসা চললেও রহস্যজনক কারনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। ফলে উঠতি বয়সের যুবকরা দিন দিন মাদক বিক্রি ও সেবনের দিকে ঝুকে পড়ছে। মাদক বিক্রির কাঁচা পয়সা হাতে পেয়ে এলাকায় ক্রমান্বয়ে বখাটে এবং কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারনে অপরাধ প্রবনতা মাত্রাতিরিক্তহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব উঠতি বয়সের ছেলেদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহসও পাচ্ছে না।
জানা যায়, উপজেলার সোনাকানিয়া কুতুব পাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে কবির আহমদ ওরফে চুক্কু(৪০) দীর্ঘদিন ধরে মদ, গাাঁজা ও ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্যের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ইতোপূর্বে মাদক ব্যবসার জড়িত থাকার অপরাধে সাতকানিয়া থানা পুলিশ দু’বার তাকে গ্রেফতার করে। প্রথমবার গ্রেফতারের পর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেন। দ্বিতীয়বার থানা থেকে ছাড়া পেয়ে যান। পরবর্তীতে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করতে গেলে বাড়ি তল্লাসী করে চোলাই মদসহ তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরন করে। কিছুদিন পর জেল থেকে স্ত্রী ছাড়া পান। এরপর থেকে শুরু হয় চুক্কুর বেপরোয়া মাদক ব্যবসা। দিনে দুপুরে গাঁজা বিক্রি করতে থাকে। পুরো ইউনিয়ন জুড়ে কবির আহমদ ওরফে চক্কুর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে উঠতি বয়সের যুবকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওইসব উঠতি বয়সের যুবকরা সারা ইউনিয়ন ঘুরে ঘুরে গাঁজা বিক্রি করে। শুধু তাই নয় বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়নের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গাঁজা সরবরাহ করে।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, সকাল থেকে রাত গভীর পর্যন্ত চক্কুর গাঁজা ব্যবসায় কোন বিরতি নেই। ফলে হাত বাড়ালেই পুরো ইউনিয়ন জুড়ে পাওয়া যায় গাঁজা। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার সুবাদে শিক্ষার্থীরা বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে গাঁজা সেবনে অভ্যস্থ হয়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনছে। এসব কারনে এলাকার অভিভাবকরা এখন শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
যোগাযোগ করা হলে সোনাকানিয়া ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফজল আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কবির আহমদ ওরফে চক্কু বেপরোয়াভাবে এলাকায় গাঁজা বিক্রি করে। ফলে এলাকার যুব সমাজ দিন দিন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
যোগাযোগ করা হলে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি, মাদকের বিষয়ে কোন ছাড় নেই। ওই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •