সিবিএন ডেস্ক:
বিদেশ যাওয়ার অনুমতির জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে একটি উপায় আছে। তিনি যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন তাহলে ৪০১ ধারায় তা বিবেচনা করার সুযোগ আছে। তবে সেক্ষেত্রে দোষ স্বীকার করে নিয়ে তারপর ক্ষমা চাইতে হবে। সোমবার (১০ মে) একাত্তর টেলিভিশনে টকশোতে একথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

কেন খালেদা জিয়ার বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে করা আবেদনে সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি সে প্রশ্নের ব্যাখ্যা দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তার শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে মুক্তি চেয়ে আবেদন করতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধিতে ৪০১ ধারাটা সরকারের ক্ষমতা রয়েছে, যেখানে সাজাপ্রাপ্ত আসামির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। সরকারের যে কাজই করতে হোক না কেন সেটি আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হতে হয়। ৪০১ ধারা ক্ষমতাবলে সরকার শর্তসাপেক্ষে তাকে মুক্তি দিয়েছে। এই মুক্তি দেওয়ার পরে তার দরখাস্তটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া দরখাস্ত পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা ৪০১ এ নেই।’

প্রশ্ন হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারেন কিনা– এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীতে যদি কাউকে বিদেশ যেতে অনুমতি দিতে হয় সেটা আইনের মাধ্যমেই দিতে হবে। এখন আমার কাছে এমন কোনও আইন নেই যেটাতে আমি বলতে পারবো এই আইন বলে তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে এখন যদি খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন তাহলে ৪০১ ধারায় সেই আবেদন বিবেচনা করার সুযোগ আছে। তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন তাহলে ৪০২ (২) ধারায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। সংবিধানের ৪৯ ধারায় স্পষ্ট আছে যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে ক্ষমা করতে পারবেন। এখানে একটি প্রশ্ন আছে যে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

ক্ষমা চাইলে মাফ করে দেওয়া হবে একথা তার জায়গা থেকে মন্ত্রী বলতে পারেন না উল্লেখ করে বলেন, আইনের মধ্যে পন্থা হচ্ছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ক্ষমা পেলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। বলা হচ্ছে ১৯৭৭ সালে আসম আব্দুর রবকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও। ১৯৭৭ সালে মার্শাল ল ছিল। সেসময় রাষ্ট্রপতি যদি বলতেন এখন আইন ডান দিকে যাবে তবে আইন ডান দিকে যেত, যদি বলেন আইন বাম দিকে যাবে তবে আইন বাম দিকে যেতে। যদি বলতেন আইন সোজা পথে যাবে যেইটা তারা কখনও বলতেন না, তাহলে আইন সোজা পথে যেত। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাবলে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, যখন একটা মামলা হাইকোর্টে আপিল বিভাগে থাকে যখন সে মামলার আসামি অসুস্থ থাকে তার জামিন চাওয়া হয় এবং জামিন চাওয়া সময় সে যদি বলে উন্নততর চিকিৎসার জন্য আমি বিদেশ যেতে চাই আপনি আদালত অনুমতি দেন এরকম নজির কিন্তু আছে। সেটা আদালত দিতে পারে যদি আদালত জামিন দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ৪০১ এর কাজ সম্পাদিত হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকে না। আমি কিন্তু বলছি না তাকে বিদেশে যেতে দিয়েন না। আমি বলছি ৪০১ ধারা যে দরখাস্ততার ওপর আমরা অলরেডি পদক্ষেপ নিয়ে তাকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছি। এই দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এই দরখাস্ত পুনর্বিবেচনার কোনও সুযোগ আইনে নেই। আইনে যখন আছে তখন তারা ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরখাস্ত করার কথা বলা হচ্ছে সেখানে একটি বিষয় পরিষ্কার। দোষ স্বীকার করে নিয়ে তারপর ক্ষমা চাইতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •