মুহাম্মদ সেলিম, বিডি প্রতিদিন, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে নাশকতার ঘটনায় হেফাজতে ইসলামকে অর্থায়ন ও ইন্ধন দিয়েছেন ২৮ ব্যক্তি। তাদের মধ্যে হেফাজতের শীর্ষ নেতা ছাড়াও রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা। রয়েছেন কয়েকজন প্রবাসীও। থানায় হামলা ভাঙচুর এবং সরকারি স্থাপনায় হামলায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি ছিলেন বিএনপি, জামায়াতের পদধারী নেতারাও। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক জানান, ‘চট্টগ্রামে হেফাজতের নাশকতার পেছনে বেশ কিছু নাম পাওয়া গেছে। ইন্ধন, অর্থায়ন এবং হামলায় বিএনপি-জামায়াতের অনেকের নাম উঠে এসেছে। যার মধ্যে অনেককে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ পুলিশ সুপার বলেন, ‘শনিবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাশকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি-জামায়াতের পদধারী অনেকে রয়েছেন।’

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি- বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়া, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন নাশকতার অর্থায়ন ও ইন্ধনে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম, জামায়াত বিএনপির ২৮ ব্যক্তি। পূর্বপরিকল্পিত এ নাশকতায় অর্থায়ন করেছেন তিন বিএনপি নেতা, দুই জামায়াত নেতা এবং কয়েকজন প্রবাসী। তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াত নেতা তসবিহ জাহাঙ্গীর, রাজা মিয়া কন্টাক্টর, সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আনোয়ার, হাফেজ আলী আজম, দুবাই প্রবাসী জসিম উদ্দিন, কাতার প্রবাসী মো. ফারুক, ওজাইর আহমেদ হামিদী, শোয়েব মোরশেদ ফারুকী অন্যতম। ইন্ধনদাতা হিসেবে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব নাছির উদ্দিন মুনির, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, সহ-অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ মাস্টার, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়জী, জাহাঙ্গীর মেহেদী, লোকমান হাকিম, আবদুল কাউয়ুম ফতেপুরী অন্যতম। চট্টগ্রামে নাশকতার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বিএনপি-জামায়াত ও তাদের মতাদর্শীদের অনেকে। যার মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন পদধারী। তাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক, জাহেদুল ইসলাম, উত্তর জেলা যুবদল নেতা সৈয়দ ইকবাল, আবদুল কাদের, কামরুদ্দিন নাহিদ, মোজাফ্ফর চৌধুরী, বখতিয়ার হোসেন তালুকদার। জামায়াত নেতা খোরশেদ আলম, শরফুদ্দীন মোহাম্মদ সেলিম, মকিবুল ইসলাম চৌধুরী, শিবির নেতা মিজানুর রহমান, ইব্রাহিম অন্যতম।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদির সফরকে ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বি-বাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন তান্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা। এ সময় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা হাটহাজারী থানা, পটিয়া থানা, সরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •