মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ফুলতলা স্টেশনে গত ২ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার পর দিন ৩ মে রাতে পেকুয় থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন এর ছোট ভাই আমিরুজ্জামান (২৬)। যার মামলা নং ০২, তাং ০৩/০৫/২১ইং। মামলার এজাহারে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরো ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

হত্যা মামলার আসামীরা হলেন, মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মগনামা বহদ্দার পাড়া গ্রামের নুরুল আলম চৌধুরী পুত্র আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী বাবুল (৫৫), মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিকদার বাড়ির মৃত জিল্লুল করিম চৌধুরীর পুত্র ইউনুচ চৌধুরী (৫২), মগনামা আফজলিয়া পাড়ার মৃত বদিউর রহমানের পুত্র উপকূলের দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সিরিয়াল কিলার আবু ছৈয়দ (৩৫), মগনামা মওলার পাড়া গ্রামের নুরুল হোসেন পুতুর পুত্র ও আবু ছৈয়দ বাহিনীর সেকেন্ড ইন্ড কমান্ড নেজাম উদ্দিন ছোটন (২৫), মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মগনামা সাতঘর পাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র জিয়াউর রহমান জিয়া (২৮), মগনামা নুন্যার পাড়া গ্রামের পোড়া বদর পুত্র মোস্তাক মিয়া (৩০), আফজলিয়া পাড়া গ্রামের শামসুল আলমের পুত্র মাহমুদুল করিম (৩০), মগনামা মুহুরী পাড়া গ্রামের মৃত মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর পুত্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ রিপন চৌধুরী (৩৩), সিরিয়াল কিলার আবু ছৈয়দের ভাই আহমদ কবির (৪৪), মগনামা ইউনিয়ন যুবদল নেতা ও বহদ্দার পাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র সায়েদ খান শান্ত (৩৫), নুন্যার পাড়া গ্রামের পোড়া বদর পুত্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মকছুদ মিয়া (৩৫), মগনামা হারুন সাতবর পাড়া গ্রামের মনজুর আলমের পুত্র আবুল হাসেম বেন্ডিয়া (৩৫), মুহুরী পাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের পুত্র সামছুল আলম (৩৮), মাঝির পাড়া গ্রামের মৃত আহমদ হোসেনের পুত্র আমির হোসেন বুলু (৪০), মগনামা আফজলিয়া পাড়া গ্রামের আহমদ কবিরের পুত্র পারভেজ মোশারফ (২০), একই গ্রামের মো: কালুর পুত্র মো: রাসেল (২২), বহদ্দার পাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের পুত্র জাহেদুল ইসলাম (৩২), আফজলিয়া পাড়া গ্রামের মৃত মো: কালুর পুত্র মো: দুলাল প্রকাশ দেলোয়ার (৩০), মাঝির পাড়া গ্রামের মৃত আবুল কালামের পুত্র আবু হানিফ (৩০), আফজলিয়া পাড়া গ্রামের আমিনুল হকের পুত্র রেজাউল করিম (৩৩), কুদাইল্লাদিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র আবদুস সালাম (৩০), সাতঘর পাড়া গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র নুর মোহাম্মদ (৪১), মগনামা কাদের বলি পাড়া গ্রামের আসহাব উদ্দিনের পুত্র মনজুর আলম (২৭), নুন্যার পাড়া গ্রামের এনামের পুত্র নেছার (৩৫), মওলার পাড়া গ্রামের মৃত নুরুল হোসেন পুতুর তিন পুত্র এহসান (৩৩), নজরুল ইসলাম (৩০) ও আবদুল হালিম (২৭), বহদ্দার পাড়া গ্রামের ফিরোজ আহমদের পুত্র কায়েস (২৯), রাহাত আলী পাড়া গ্রামের আবদুন নবীর পুত্র শাহ আলম (৪৫), নুন্যার পাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের পুত্র মো: বাদশা (৪৫), নুন্যার পাড়া গ্রামের আহমদ কবির প্রকাশ পোড়া বদ (৫৫), বহদ্দার পাড়া গ্রামের ফকির আহমদ প্রকাশ কালুর পুত্র মো: মুজিবুর রহমান (৩২)।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মামলার আসামীগণ তাদের একই গ্রামের এবং পাশপাশি গ্রামের বাসিন্দা। নিহত জয়নাল আবেদীন তার আপন ভাই। আসামীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমি দখলবাজ হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়াদিসহ এলকায় আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে আসামীগণ তার ভাই জয়নাল আবেদীনের সাথে শত্রুতা পোষন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ারারুল আজিম চৌধুরী বাবুল ও ইউনুচ চৌধুরী গত সপ্তাহ যাবৎ হুমকি দিয়ে আসছিল, তারা জয়নাল আবেদীনকে যেকোন সময় যে কোন ভাবে হত্যা করিবে। বাবুল ও ইউনুচের হুকুমে আবু ছৈয়দের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গত ২ মে (রোববার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ভাই জয়নাল আবেদীন ও একই এলাকার আলী আকবর মগনামা ফুলতলা স্টেশনেরএহসান উল্লাহ প্রকাশ আশুর চায়ের দোকানে অবস্থান করা কালে উপকূলীয় এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী, কয়েক ডজন মামলার আসামী আবু ছৈয়দের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামীরা অস্ত্রশস্ত্র তাদের উপর বেপরোয়া গুলি বর্সণ করে। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া গুলিতে গুরুতর আহত জয়নাল আবেদীনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এছাড়াও সন্ত্রাসী আবু ছৈয়দ বাহিনীর হামলায় ব্যবসায়ী আলী আকবর ও স্কুল ছাত্রী রিফা আক্তারও আহত হয়। গুরুতর আহত আলী আকবর বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড কেনভাবেই মেনে নিতে পারছেনা এলাকাবাসীরা। স্থানীয়রা জানান, নিহত জয়নাল আবেদীন একজন পরহেজগার মুসল্লি ছিলেন। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করতেন।

এদিকে গতকাল ৪ মে বিকালে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের বাসভবনে হত্যাকান্ডে জড়িত খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই ও হত্যা মামলার বাদি আমিরুজ্জামান। সংবাদ সম্মেলনে আমিরুজ্জামান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তার ভাইকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে সেসব সন্ত্রসীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন। ত্রা ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার ভাই কোন অপরাধী ছিলেন না। তার ভাই সমাজসেবক ছিলেন। তার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের আসামী করা হয়েছে। মামলায় কোন নিরীহ মানুষকে আসামী করা হয়নি বলেও আমিরুজ্জামান দাবি করেছেন।

মগনামা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী জানান, তিনি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। দীঘদিন ধরে মগনামার বাইরে বসবাস করেন। এরপরেও তাকে শত্রুতামূলকভাবে ওই হত্যা মামলায় হুকুমের আসামী করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মকছুদ মিয়ার পরিবার অভিযোগ করেছেন, তাদের কেউ জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ডে জড়িত নয়। একটি চিংড়ি ঘের নিয়ে আক্রোশের জেরে তাদের পরিবারের কয়েকজনকে অহেতুক হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। মোস্তাক মিয়ার একটি স্থাপনাও অন্যায়ভাবে ভাংচুর চালানো হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ রিপন চৌধুরী পরিবারের সদস্য অভিযোগ করেছেন, জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ড সংগঠিত হওয়ার এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে রিপন অসুস্থ হয়ে এলাকার বাইরে রয়েছেন। এরপরেও কোন কারণ ছাড়াই রিপনকে হত্যা মামলার আাসমী করা হয়েছে।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন পাল জানান, জয়নাল আবেদীন হত্যা মামলার কয়েক জন আটক করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •